বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

ছোট গল্প

লাল পদ্ম

জান্নাতুল ফিরদাউস রুকু

প্রকাশিত:
২০ নভেম্বর ২০২৪, ১১:২৬

গল্পের পটভূমি এক ছোট্ট গ্রাম, যেখানে রয়েছে রহস্যময় লাল পদ্মের দীঘি। দীঘির পাড়ে বসে থাকা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে ছিল দুই বন্ধু—রাহুল আর নীলা। রাহুল ছিল শহরের ছেলে, ছুটির সময় গ্রামে আসত পরিবারের সাথে। আর নীলা ছিল গ্রামের মেয়ে, যার শৈশব কেটেছে লাল পদ্মের দীঘির সৌন্দর্যের মাঝে।

ছোটবেলায়, রাহুল আর নীলার প্রথম দেখা হয় লাল পদ্মের দীঘির পাড়ে। দুজনের বন্ধুত্ব দ্রুত গড়ে ওঠে। রাহুল শহরের গল্প শোনাত, আর নীলা তার গ্রামের কথা। দীঘির লাল পদ্ম, শান্ত পানির ঢেউ, আর পাখিদের কলতান তাদের খেলার মাঠ হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু সেই সুখের দিনগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাহুলের বাবার চাকরির কারণে তাদের পরিবার হঠাৎ করেই শহরে চলে যায়। রাহুলের ছোট্ট হৃদয়টি ভেঙে যায়, কারণ সে জানত না, তার প্রিয় বন্ধু নীলার সাথে আর কখনও দেখা হবে কি না। বিদায়ের সময় নীলার হাতে একটি পদ্মফুল দিয়ে বলেছিল, "ফিরে আসব। এই পদ্মটা রেখে দিও, যেন আমাদের বন্ধুত্ব ভুলে না যাও।"

দীর্ঘ ১০ বছর কেটে যায়। শহরের ব্যস্ত জীবনে রাহুলের শৈশবের স্মৃতিগুলো ঝাপসা হতে শুরু করেছিল, কিন্তু লাল পদ্মের দীঘি আর নীলার স্মৃতি তার হৃদয়ে অমলিন ছিল। একদিন হঠাৎই তার পরিবার আবার সেই পুরোনো গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, রাহুলের বাবা অবসর নিয়েছে, তাই তারা গ্রামের বাড়িতে স্থায়ী হতে চায়। রাহুলের হৃদয় উচ্ছ্বাসে ভরে উঠল। সে ভাবল, "নীলাকে দেখতে পাব! সে কি এখনো লাল পদ্মের দীঘির পাড়ে আসে?"

গ্রামে ফিরে এসে রাহুল তার পুরনো স্মৃতিগুলো খুঁজতে থাকে। দীঘির পাড়ে যায়, কিন্তু সেখানে নীলার কোনো চিহ্ন খুঁজে পায় না। গ্রামের অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করল, কিন্তু সবাই কেবল মাথা নাড়ল, কেউই স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারল না।

দিনের পর দিন কেটে যায়, কিন্তু রাহুল নীলাকে খুঁজে পায় না। তার মন ভেঙে যেতে শুরু করল, কিন্তু সে হাল ছাড়েনি। সে প্রতিদিন সেই দীঘির পাড়ে গিয়ে বসে থাকত, আশায় যে নীলা একদিন হঠাৎ করে সামনে এসে দাঁড়াবে। প্রতিটি সন্ধ্যায় লাল সূর্য দীঘির জলে প্রতিফলিত হতো, কিন্তু নীলার কোনো খবর ছিল না।

একদিন গ্রামের এক বৃদ্ধ রাহুলের কাছে এসে বললেন, "নীলা এখন আর এখানে থাকে না, সে অনেক আগেই অন্য এক গ্রামে চলে গেছে। তবে তোমার মতো কেউ তাকে খুঁজছে দেখে ভালো লাগল।" রাহুল সেই গ্রামের খোঁজ নিতে শুরু করল।

অবশেষে রাহুল খোঁজ পেল নীলার। সে সেই গ্রামে পৌঁছে জানতে পারল নীলা তার বাবার সাথে একান্ত নিভৃতে জীবন কাটাচ্ছে। রাহুলের মনের মধ্যে আবেগের ঢেউ উঠল। সে ভাবল, "এতদিন পরে দেখা হবে নীলার সাথে। আমি তাকে বলব আমি কখনোই তাকে ভুলিনি।"

নীলা যখন রাহুলকে দেখতে পেল, তার চোখে অবিশ্বাসের ছাপ পড়ল। দীর্ঘ ১০ বছর পর আবার সেই পুরোনো বন্ধুর দেখা পেয়ে নীলা মুগ্ধ হলো, কিন্তু তারা কথাও শুরু করার আগে এক ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে গেল। নীলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল, আর সেই সময় এক দ্রুতগামী গাড়ি হঠাৎ করে এসে তাকে ধাক্কা মারল। রাহুল ছুটে গিয়ে তাকে ধরে ফেলল, কিন্তু তখনও অনেক দেরি হয়ে গেছে।

নীলা রাহুলের হাতে শেষ মুহূর্তে সেই পুরোনো পদ্মফুলটি তুলে দিয়ে চোখ বুজল। তার ঠোঁট কাঁপল, কিন্তু সে কিছু বলার আগেই সবকিছু শেষ হয়ে গেল। রাহুলের হাতের মধ্যে ছিল পদ্মফুল, আর হৃদয়ে ছিল নীলার অমর ভালোবাসা।

রাহুল শূন্য দৃষ্টিতে দীঘির পাড়ে বসে থাকত, আর মনে মনে ভাবত, "আমাদের গল্পটা অসমাপ্ত রয়ে গেল, কিন্তু ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না। নীলা চিরকাল আমার হৃদয়ে থাকবে।" সেই লাল পদ্মের দীঘির পাশে বসে রাহুল জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নীলার স্মৃতি ধরে রাখল, আর তাদের অসমাপ্ত ভালোবাসা তার হৃদয়ে চিরকাল জীবিত থাকল।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর