বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

যিলহজের প্রথম দশকের বিশেষ কিছু আমল

এইচ এম জহিরুল ইসলাম মারুফ

প্রকাশিত:
৮ জুন ২০২৪, ১১:৩৩

১. অধিক পরিমানে আল্লাহর জিকির করা। আল্লাহ বলেন, যেন তারা তাদের জন্য স্থাপিত কল্যাণসমূহ প্রত্যক্ষ করে এবং নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। [সূরা হজ্ব : ২৮]

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, উক্ত আয়াতে নির্দিষ্ট দিন বলে যিলহজের প্রথম দশককে বোঝানো হয়েছে। [তাফসিরে ইবনে কাসির : ৫/৪১৫]

২. নেক আমল ও ভালো কাজের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হওয়া। কেননা, মহান আল্লাহর নিকট অন্যান্য সময়ের আমলের চেয়ে যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল অধিক প্রিয়। [সহিহ বুখারি : ৯৬৯, আবু দাউদ : ২৪৩৮]

৩. অন্য সময়ের তুলনায় এই দিনগুলোতে গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে অধিক সচেষ্ট থাকা। [সূরা তাওবা : ৩৬, আবু দাউদ : ২৪৩৮]

৪. সামর্থ্য থাকলে হজ করা। হজের মূল কার্যক্রম এই দশকেই হয়ে থাকে। [ সূরা আল ইমরান : ৯৭]

৫. সামর্থ্য থাকলে কুরবানী করা। মহান আল্লাহ বলেন, তুমি নিজ প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় করো ও কুরবানী করো। [সূরা কাউসার : ২]

৬. কুরবানী করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির কুরবানী করার আগ পর্যন্ত নখ, চুল ও অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকা। [সহিহ মুসলিম : ৫০১৫]

এ হাদীসে যদিও কুরবানীদাতাকে চুল, নখ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, তবে বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, যাদের কুরবানী করার সামর্থ্য নেই, তারাও ফযিলতপূর্ণ এ আমলটি করতে পারেন। এমনকি শিশুদেরকেও চুল-নখ কাটা থেকে বিরত রাখা উত্তম। [সুনানু আবি দাউদ, ২৭৮৯]

৭. অধিক পরিমাণে তাকবীর, তাহমীদ ও তাহলীল পাঠ করা। অর্থাৎ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ পড়া। রাসুল (সা.) বলেছেন, এ দিনগুলোতে তোমরা অধিক পরিমাণে তাকবীর, তাহমীদ ও তাহলীল পাঠ করো। [আল-মুজামুল কাবির]

৮. তাকবীরে তাশরীকের দিনগুলোতে প্রত্যেক সালাতের শেষে বিশেষভাবে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা। অর্থাৎ ৯ যিলহজ ফজর থেকে ১৩ যিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি নামাজের পর একবার 'আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ' পাঠ করা। [মুসান্নাফে আবি শাইবা : ৫৬৩১]

৯. প্রথম নয়দিন রোজা রাখা। কোনো কোনো বর্ণনায় যিলহজের প্রথম নয় দিনই সিয়াম পালনের নির্দেশনা পাওয়া যায়। তাছাড়া এই দিনগুলোর নেক কাজ আল্লাহর প্রিয় হওয়ায় এর সব দিনেই নফল সিয়াম রাখা যায়। অনেক ইমামগণও যিলহজের প্রথম নয় দিন সিয়াম পালন করাকে মুস্তাহাব বলেছেন।

১০. আরাফার দিন বিশেষভাবে রোযা রাখা। কেননা, আরাফার দিনে রোযা রাখলে আল্লাহ তার পেছনের এবং সামনের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেন। [সহিহ মুসলিম : ১১৬২]

কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে বিশ্লেষিত আরো কিছু আমল:-

১১. শুরু ওয়াক্তে জামায়াতের সহিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।

১২. প্রতিদিন কমপক্ষে ২/৪ রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা।

১৩. ইশরাক, চাশত, সালাতুদ দুহা ও সালাতুল হাজাত করা।

১৪. সামর্থ্য অনুযায়ী গোপনে দান সাদাকাহ করা।

১৫. যথাসম্ভব বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া।

১৬. দৈনিক কমপক্ষে ১/২ পারা কুরআন তেলাওয়াত করা।

১৭. অনবরত জিকির, তাওবা, ইস্তেগফার , তাসবীহ , তাহলীল ও দুরুদ পাঠ করা।

১৮. অধিক পরিমাণে জিকিরের পাবন্দি করা (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ্,লা ইলাহা ইল্লালাহ, আল্লাহু আকবার, আস্তাগফিরুল্লহ, আল্লাহুম্মাগফিরলি, সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবেহানাল্লাহিল আজিম)

১৯. সুন্নাহ অনুযায়ী সব কাজ করা।

জিলহজ্জের এই প্রথম ১০ দিনের একটি মুহুর্ত ও অবহেলায় কাটাবেন না। যার যা চাওয়ার আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে চেয়ে নিন।

আল্লাহ তায়ালা সকলকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর