বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত:
১৬ মার্চ ২০২৪, ১৪:৩৭

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকায় ওই সব বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজেও বাড়ছে জটিলতা। শিগগিরই ওই সব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকেরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৩৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকদের একজনকে দায়িত্ব দিয়ে ওই সব বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে। ৩৬টি বিদ্যালয়ের বেশির ভাগে তিনজন করে শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ায় অপর দুজন সহকারী শিক্ষক দিয়েই ক্লাস চালানোর কারণে পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করায় তাঁদের মানতে চান না অন্য সহকারী শিক্ষকেরা। ফলে অনেক ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হচ্ছে।


প্রায় ১৬ বছর ধরে মদনের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়টিতে ১১২ শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক তিনজন। এর মধ্যে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হয়েছে। নিয়মিত পাঠদান করেন দুজন শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে অসুস্থ বা ছুটিতে থাকলে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন  বলেন, ‘আমিসহ তিন শিক্ষক ছিলাম। তবে সম্প্রতি একজন শিক্ষক ডেপুটেশন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাসে অন্তত ১০ কর্মদিবস উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে অথবা কোনো সভায় যোগ দিতে উপজেলা সদরে যেতে হয়। তখন ওই তিন শিক্ষক দিয়েই প্রাক্-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণির শিক্ষার্থীর ক্লাস চালানো হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়ানো যায় না। একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে।’


২০১১ সাল থেকে সুবাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ১৪০ শিক্ষার্থী রয়েছে। আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ হোসেন  বলেন, ‘আমাকে মাসের ৮ থেকে ৯ দিন দাপ্তরিক কাজের জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়। অপর দুজন শিক্ষককে সবগুলো ক্লাস নিতে হয়। এতে ঠিকমতো ক্লাস নেওয়া যায় না এবং শিক্ষার মান দুর্বল হচ্ছে। বিষয়গুলো শিক্ষা কর্মকর্তাকে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।’

সুবাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রবিউল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকসহ স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। একই সময়ে এক শিক্ষকের একাধিক ক্লাস নিতে গিয়ে কার্যত পড়াশোনাই হচ্ছে না।

৩৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, নানা জটিলতার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, তাদের একটি তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর