প্রকাশিত:
২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৬
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইরাকে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কারণে দেশটি এখন কার্যত ‘দ্বিতীয় রণক্ষেত্রে’ পরিণত হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এই বাহিনীর কিছু অংশ ইরানঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় ইরাকে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সর্বশেষ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরের একটি হেলিপ্যাডে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সেই সঙ্গে উত্তর ইরাকেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কুর্দি অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এক ড্রোন হামলায় কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নিশিরমান ভারজানির বাসভবন লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ইরাকে এখন পর্যন্ত ১০০ থেকে ১০৩ জন নিহত এবং ২০০ থেকে ২১২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরাকের পিএমএফ-এর সদস্যদের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধা ও কিছু বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের মধ্যেও পিএমএফ সদস্য, কুর্দি বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
যুদ্ধের শুরুতে ইরাকে হতাহতের সংখ্যা খুবই কম ছিল। মার্চের শুরুর দিকে তা ছিল মাত্র ১৫ জনের মতো। তবে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটি এখন কার্যত একটি ‘দ্বিতীয় যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে ইরানপন্থি গোষ্ঠী, মার্কিন বাহিনী এবং কুর্দি শক্তিগুলোর জটিল অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও সহিংস করে তুলছে। ফলে ভবিষ্যতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের বর্তমান সংকটের মূল কারণ এর অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং জটিল পররাষ্ট্রনীতি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছাতাম হাউসের গবেষক রেনাদ মানসুর বলেন, ‘ইরাকের রাষ্ট্র কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন বৈদেশিক শক্তির সঙ্গে জড়িত ও অনুগত। কিছু গোষ্ঠী ইরানের ঘনিষ্ঠ, আবার কিছু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে।’
তার মতে, এই বিভক্ত অবস্থানই ইরাককে সংঘাতের মধ্যে টেনে এনেছে, যেখানে দেশটি এখন একাধিক পরাশক্তি ও আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দানে পরিণত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে ইরাকে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং গোটা দেশ আরও গভীর অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন: