প্রকাশিত:
৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:৩১
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ কমে আসায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখন কঠোর সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য 'হোম অফিস' কর্মসূচি চালু, সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস প্রবর্তনের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত পরিবহন খাতে জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি কোনো অতিরিক্ত ছুটি নয়, বরং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সাময়িকভাবে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' বা বাসা থেকে অফিস করার একটি রুটিন ব্যবস্থা হতে পারে। এছাড়া বড় শহরগুলোতে যানজট নিরসন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কমিয়ে জ্বালানি বাঁচাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আংশিক অনলাইন ক্লাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি সরকারি সংস্থাকে ইতিমধ্যেই নিজস্ব সাশ্রয়ী প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১১ দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহারসহ কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট এই বৈশ্বিক সংকট কতদিন স্থায়ী হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমের রূপরেখা নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য করুন: