প্রকাশিত:
৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:০৭
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশনে এক তপ্ত বিতর্কের অবতারণা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে অধিবেশন চলাকালে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সংসদের মূল লক্ষ্য কেবল সংবিধানের উপরিভাগের ‘সংশোধন’ নয়, বরং এর আমূল ‘সংস্কার’। সংবিধানের বৈধতা ও গণভোটের রায় নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে চলমান বাদানুবাদের প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বক্তব্যের শুরুতেই নাহিদ ইসলাম স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফ্লোর বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার দাবি জানান। তিনি বলেন, “আমি অনেকক্ষণ ধরে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলাম। আমরা আশা করি, আপনি যখন ফ্লোর দেবেন, সেখানে কোনো বৈষম্য করবেন না।” সংসদীয় কার্যবিধিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
চিফ হুইপ আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধীদলীয় নেতা একটি মূলতবি প্রস্তাব পেশ করেছেন এবং সেই অনুযায়ী স্পিকারের রুলিং ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের (আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ব্যাখ্যা এসেছে। তবে সংক্ষিপ্ত সময়ের দোহাই দিয়ে বিরোধী দলকে কথা বলতে না দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বর্তমান সংসদের ভিত্তিকে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন— এই দুটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে, যার মূল ভিত্তি হলো ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’।” তিনি অভিযোগ করেন যে, যে গণভোট ও গণরায়ের ভিত্তিতে এই সংসদ দাঁড়িয়ে আছে, সেই আদেশকে বর্তমানে অসাংবিধানিক প্রমাণের চেষ্টা চলছে। এটি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তার এই বক্তব্যের সময় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা যায়।
মন্তব্য করুন: