প্রকাশিত:
৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৮
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস বৈঠক শেষে আগামী ২ এপ্রিল এসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং বিচারপতি নিয়োগের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। বৈঠকে সরকারি দল মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশগুলোর কিছু সংশোধনীসহ উত্থাপনের সুপারিশ করলে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, সরকার এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় দলীয়করণের পথে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। বিরোধীদের আপত্তির মুখে প্রায় ১৫টি অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল ‘গণভোট’ অধ্যাদেশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, গণভোটের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় এটি আর বিল আকারে সংসদে আনার প্রয়োজন নেই। তবে এর বিরোধিতা করে জামায়াত বলছে, গণভোটের রায়কে কার্যকর করতে হবে এবং এটি বাতিল করা অসাংবিধানিক।
বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি এবং সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় গঠনের মতো সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সরকারি প্রচেষ্টাকে ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী দল। আগামী ২ এপ্রিল সংসদে প্রতিবেদন পেশের পর এই বিষয়গুলো নিয়ে সংসদ অধিবেশনে উত্তপ্ত বিতর্কের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন: