প্রকাশিত:
১২ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৮
বড় বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় বাংলাদেশ, চীন, ভারতসহ এশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের নাম রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, সেকশন ৩০১-এর আওতায় অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা অন্যায্য সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
এই তদন্তের আওতায় রয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকোসহ আরও কয়েকটি দেশ। এছাড়া ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েও তদন্তের তালিকায় রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মের মধ্যেই তদন্ত শেষ করার চেষ্টা করা হবে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়। কয়েক সপ্তাহ আগে আদালত রায় দেয়, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনি ক্ষমতার বাইরে ছিল।
আদালত বলেছে, শুল্ক আরোপের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের হাতে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে।
এই রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় এবং প্রয়োজনে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার হুমকিও দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন তদন্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
মন্তব্য করুন: