বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

এবার নীলনদ নিয়ে মিসর ও ইথিওপিয়ার বিরোধ মেটাতে চান ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:৪৫

নীলনদের পানি বণ্টন নিয়ে মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান বিরোধ মেটাতে আবারও মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প জানান, তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নীলনদের পানি বণ্টনের এই প্রশ্নটি চিরতরে সমাধান করতে মার্কিন মধ্যস্থতা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।

ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত চিঠিটি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করা হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে নীলনদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই আন্তর্জাতিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে উত্তেজনার প্রধান কারণ হলো আদ্দিস আবাবার নির্মিত ‘গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম’। গত ৯ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশাল বাঁধটির উদ্বোধন করলে নীলনদের ভাটির দেশ মিসর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।

১২ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়া মনে করে নীলনদের একটি উপনদীর ওপর নির্মিত ৫ বিলিয়ন ডলারের এই বাঁধটি তাদের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে মিসর শুরু থেকেই এই বাঁধের বিরোধিতা করে আসছে এবং দাবি করছে যে, এটি আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করার পাশাপাশি মিসরে খরা ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইথিওপিয়া অবশ্য মিসরের এই দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতেও মিসরীয় প্রেসিডেন্ট সিসির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে গত অক্টোবরে গাজা সংঘাত সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই করতে ট্রাম্প মিসর সফর করেছিলেন এবং সে সময় নীলনদ ইস্যুতে মিসরের উদ্বেগের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন।

এর আগেও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটন এই বিরোধ মেটাতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। ট্রাম্পের এবারের প্রস্তাবে নীলনদের পানি বণ্টনের বিষয়টি পুনরায় আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখন মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে যাতে দুই দেশের স্বার্থই রক্ষিত হয়। আফ্রিকার দ্বিতীয় জনবহুল দেশ হিসেবে ইথিওপিয়ার জ্বালানি চাহিদা এবং মিসরের পানির নিরাপত্তার সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার একটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর