প্রকাশিত:
১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:২৪
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন (ইইউ ইওএম) সারা দেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে এসব পর্যবেক্ষক মাঠপর্যায়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে ইইউ ইওএমের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইনতা লাসে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আজ থেকেই পর্যবেক্ষকেরা দেশের ৬৪টি জেলায় নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন প্রস্তুত করা হবে।
ইনতা লাসে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা সাধারণত দুই সদস্যের দলে কাজ করবেন। তারা শুধু বড় শহরেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়েও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
তিনি জানান, পর্যবেক্ষকদের প্রধান কাজের মধ্যে থাকবে সাধারণ ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ। পাশাপাশি তারা নাগরিক পর্যবেক্ষক, তরুণ কর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে ঢাকায় অবস্থানরত মূল বিশেষজ্ঞ দলের কাছে তথ্য পাঠাবেন।
এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোই নয়, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের আগে পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী আইনগত কাঠামো, গণমাধ্যম পরিস্থিতি এবং সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি ইইউ ইওএমের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইইয়াবস আনুষ্ঠানিকভাবে এই মিশনের উদ্বোধন করেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম তত জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে মিশন কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচনের দিন ও তার আশপাশের সময়ে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মাঠে নামবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইইউ ইওএম তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।
ইইউ ইওএম জানিয়েছে, তারা ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গৃহীত আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করে এবং কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের প্রেক্ষিতেই এই পর্যবেক্ষক দল মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন: