প্রকাশিত:
১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫২
ইরানে সামরিক হামলা চালানো থেকে যুক্তরাষ্ট্র কেন বিরত রয়েছে—এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, কোনো উপসাগরীয় দেশ, ইসরাইল কিংবা অন্য কেউ তাকে হামলা থেকে বিরত থাকতে রাজি করায়নি; বরং ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপই তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা না করার পেছনে সৌদি আরব, কাতার বা ওমানের কোনো ভূমিকা নেই। তার ভাষায়, “আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইরানের আচরণই আমাকে প্রভাবিত করেছে।”
একই পোস্টে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি বাতিল করায় ইরানের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, নির্ধারিত সব মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মানের চোখে দেখেন এবং এ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এরপর হোয়াইট হাউস ত্যাগ করে ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, কেউ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেনি। তিনি নিজেই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছেন। তার মতে, ফাঁসি কার্যকর না করে তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে বড় প্রভাব ফেলেছে।
এর আগে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায় ৮০০টি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়।
ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সরকারি দমন-পীড়নে সেখানে হাজারো মানুষ হতাহত হয়েছে। এক বক্তব্যে তিনি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিতে আহ্বান জানান, পাশাপাশি সহায়তা আসছে বলেও মন্তব্য করেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ফাঁসি কার্যকর করা হয়, তাহলে তেহরানকে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা এই বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে হতাহত ও আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন: