শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

ফেরত গেল ২০০ কোটি টাকা

চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে

মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত:
১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৫৭

চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পটি শেষ হয়েছে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি, অনিয়মের অভিযোগ ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্নের মধ্য দিয়ে। নির্ধারিত সময় একাধিকবার বাড়ানোর পরও প্রকল্পের সব কাজ শেষ করা যায়নি। ফলে অব্যবহৃত ও বাদ পড়া খাত থেকে প্রায় দুইশ কোটি টাকা ফেরত গেছে। এই প্রকল্পকে ঘিরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেসব বিতর্ক, অভিযোগ ও সীমাবদ্ধতা ছিল, তা বড় আকারের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ওয়াসার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুল বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রায় দুইশ কোটি টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। তার ভাষায়, কাজ কম হয়েছে এমন নয়। কিছু কাজ করতে হয়নি, আবার কিছু আইটেমের কাটছাঁট হয়েছে। প্রকল্পে অনেকগুলো আইটেম ছিল, সব মিলিয়েই এই টাকা ফেরত গেছে। তিনি আরও জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টেকনিক্যাল তদারকি করবে। বর্তমানে কারিগরি বিষয়গুলো তারা দেখছে। এরই মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে কিছু জনবলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারির আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে স্থায়ী লোকবল পাওয়া যাবে, না হলে সীমিত জনবল দিয়েই কার্যক্রম চালাতে হবে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল এক হাজার ৩৬ কোটি টাকা। মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্প এলাকা সংক্রান্ত ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রায় তিন বছর কাজ বন্ধ থাকে। অবশেষে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরপর ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন পায়। সময় ও ব্যয় বাড়তে বাড়তে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়। ওই সময়েই প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে এক হাজার ৯৯৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা করা হয়। পরে আবার সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হয়নি। হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯৫৯ কোটি টাকা।
অর্থায়নের ক্ষেত্রে কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক ঋণ দিয়েছে ৮২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সরকার দিয়েছে এক হাজার ১৫০ কোটি ৬৫ লাখ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করেছে ২০ কোটি টাকা। বড় অঙ্কের বিদেশি ঋণ ও সরকারি অর্থের এই প্রকল্পে সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নিয়ে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যবর্তী জ্যৈষ্ঠপুরার ভান্ডালজুড়ি পাহাড়ি এলাকায় ৪১ দশমিক ২৬ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই পানি শোধনাগার। প্রকল্প থেকে দৈনিক ছয় লাখ ঘনমিটার পানি সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, পটিয়া উপজেলা ছাড়াও কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিইউএফএল ও কাফকো শিল্পাঞ্চলে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। নগর ও শিল্পাঞ্চলের পানির চাহিদা পূরণে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

তবে বাস্তবতা হলো, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়েই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মহল অভিযোগ করেন, ভূমি অধিগ্রহণে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নির্মাণকাজের বিভিন্ন ধাপে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে পাইপলাইন স্থাপন, কংক্রিটের মান ও কিছু অবকাঠামোগত কাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

কাজের মান নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি দীর্ঘ বিলম্বের কারণে প্রকল্পের প্রত্যাশিত সুফলও সময়মতো পাওয়া যায়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হতে দেরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও শিল্পাঞ্চলগুলো কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি পানি শোধনাগার শুধু অবকাঠামো নয়; এর কার্যকারিতা নির্ভর করে মানসম্মত নির্মাণ, দক্ষ পরিচালনা ও সময়মতো বাস্তবায়নের ওপর।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর