বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ নিয়ে এক্সনের অনীহা,

ট্রাম্পের ক্ষোভের কারণ?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:৪৪

ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি এক্সনমবিলের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে এক্সনমবিলকে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের সুযোগের বাইরে রাখা হতে পারে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নেই বলে মন্তব্য করাতেই কি ট্রাম্পের রোষানলে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি?

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে এক্সনমবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যারেন উডস বলেন, ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ আকর্ষণীয় করতে হলে দেশটির আইন ও বিনিয়োগ সুরক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।

বৈঠকে জ্বালানি খাতের অন্তত ১৭ জন শীর্ষ নির্বাহী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ট্রাম্প তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ অঙ্গীকার প্রত্যাশা করেন। হোয়াইট হাউসের আশা ছিল, এই বৈঠকের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা–সংক্রান্ত জ্বালানি পরিকল্পনায় গতি আসবে।

বিশ্বে প্রমাণিত সবচেয়ে বেশি তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। তবে দেশটিতে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও আইনি অনিশ্চয়তার কথা প্রকাশ্যে বলায় এক্সনমবিলের অবস্থান দ্রুত আলোচনায় আসে এবং তা প্রশাসনের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে।

গতকাল রোববার ওয়াশিংটনে যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এক্সনের প্রতিক্রিয়া তাঁর পছন্দ হয়নি। তিনি বলেন, কোম্পানিটি ‘অতিরিক্ত চালাকি’ করছে এবং তিনি তাদের বাইরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্কের ইতিহাস জটিল। একসময় এক্সনমবিল, কনোকোফিলিপস ও শেভরন দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল। তবে ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে তেলশিল্প জাতীয়করণের পর এক্সন ও কনোকোফিলিপস ভেনেজুয়েলা থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। শেভরন সমঝোতার মাধ্যমে সেখানে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আদালতের রায় অনুযায়ী, জাতীয়করণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভেনেজুয়েলার কাছে এক্সনমবিল ও কনোকোফিলিপসের পাওনা রয়েছে মোট ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

হোয়াইট হাউসের বৈঠকে উডস ট্রাম্পকে জানান, অতীতে এক্সনের সম্পদ দুবার জব্দ করা হয়েছে। এমন অভিজ্ঞতার পর নতুন করে বিনিয়োগ করতে হলে ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের কাঠামোগত ও আইনি সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদার করা এবং দেশটির হাইড্রোকার্বন আইন সংস্কারের ওপর জোর দেন।

এই বক্তব্যের পরই ট্রাম্পের কঠোর প্রতিক্রিয়া সামনে আসে, যা ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কৌশল ও বড় তেল কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর