প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:২৪
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এসএমডিএ) যোগ দিতে তুরস্ক এখন আলোচনার উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। আলোচনা শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে রূপ নিতে পারে বলে বিষয়টি জানেন এমন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে উভয় দেশের বিরুদ্ধেই আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক এই চুক্তিতে যোগ দিলে একটি নতুন নিরাপত্তা জোট গঠনের পথ খুলে যাবে, যা মধ্যপ্রাচ্য এবং তার বাইরেও শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের স্বার্থ ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠায় এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে আঙ্কারা। পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। দুই দেশ একাধিক প্রতিরক্ষা প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করছে। বর্তমানে তুরস্ক পাকিস্তান নৌবাহিনীকে কর্ভেট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করছে এবং পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বহু এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আধুনিকায়ন করেছে। এছাড়া তুরস্ক পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তি ভাগাভাগি করছে এবং তাদের ‘কান’ (কেএএএন) পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে দুই দেশকে যুক্ত করার বিষয়েও আগ্রহী।
পাকিস্তান ও সৌদি আরব ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সৌদি আরব সফরের সময় এই ঐতিহাসিক এসএমডিএ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। রিয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই চুক্তিতে সই করেন, যা দুই দেশের কয়েক দশক পুরোনো নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করে। চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহ পর পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, আরও অনেক দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একই ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালের ৩রা অক্টোবর জাতীয় পরিষদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন আরও অনেক দেশ আমাদের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি করতে চায়।
চুক্তিটির গুরুত্ব তুলে ধরে ইসহাক দার বলেন, একাধিক আরব ও মুসলিম দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে এ ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি ভবিষ্যতে আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে এবং তা নতুন ধরনের ন্যাটো বা ‘ইস্টার্ন ন্যাটো’তে রূপ নিতে পারে।
এসএমডিএ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন গত বছর পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে সামরিক সাফল্য অর্জন করে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত পাকিস্তানের ভেতরে ‘উসকানিমূলক ও বেআইনি’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর পাকিস্তান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতের একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এর মধ্যে তিনটি রাফাল ছিল, পাশাপাশি ডজনখানেক ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যকার এই যুদ্ধ ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়। এছাড়া, গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গেও সীমান্ত সংঘাতে জড়ায়। আফগান তালেবান ও সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিতে উসকানিমূলক হামলা চালানোর পর এই সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘর্ষে দুই শতাধিক তালেবান ও সংশ্লিষ্ট যোদ্ধা নিহত হয় এবং মাতৃভূমি রক্ষায় ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা শহীদ হন। এই সংঘাতের সময় পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে, কান্দাহার প্রদেশ ও কাবুলে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালায় বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য করুন: