শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

ব্রুকলিন জেল

‘পৃথিবীর নরকে’ রাখা হয়েছে মাদুরোকে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:০৭

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে রাখা হয়েছে নিউ ইয়র্কের সমস্যা জর্জরিত ব্রুকলিস কারাগারে।

এখানে অতীতে সংগীতশিল্পী আর. কেলি এবং শন ‘ডিডি’ কম্বসের মতো আলোচিত বন্দিরাও এক সময় বন্দি ছিলেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে চালু হওয়া মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি ব্রুকলিন)-এ বর্তমানে প্রায় ১৩০০ বন্দি রয়েছেন। ম্যানহাটান ও ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন আসামিদের জন্য এটি মূলত অস্থায়ী আটকের জায়গা। সেখানে গ্যাং সদস্য, মাদক পাচারকারী থেকে শুরু করে হোয়াইট-কলার অপরাধে অভিযুক্তদেরও রাখা হয়। শনিবার রাতে অসংখ্য ভেনেজুয়েলান প্রবাসীর অনেকেই জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে জেলখানার বাইরে ফুটপাথে জড়ো হয়ে মাদুরোর গ্রেপ্তার উদ্‌যাপন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কনভয়টি ক্ষমতাচ্যুত নেতা ও তার স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছালে তারা উল্লাস করেন।

এই কারাগারে বন্দি হওয়া প্রথম প্রেসিডেন্ট নন নিকোলাস মাদুরো। এর আগে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজও যুক্তরাষ্ট্রে শত শত টন কোকেন পাচারের অভিযোগে বিচার চলাকালে এমডিসি ব্রুকলিনে আটক ছিলেন। তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড পেলেও ডিসেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমায় মুক্তি পান। বর্তমান বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন মেক্সিকোর সিনালোয়া মাদক কার্টেলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইসমাইল ‘এল মায়ো’ সামবাদা গার্সিয়া এবং লুইজি মানিওনে- যিনি ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের সিইও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। অতীতের বন্দিদের মধ্যে ছিলেন ক্রিপ্টো ব্যবসায়ী স্যাম
পাশেই উপত্যকাসমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চলে, একটি শপিং মলের পাশে এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির সামনাসামনি অবস্থিত এই কারাগারটিকে সবচেয়ে খারাপ সময়ে ‘পৃথিবীর নরক’ এবং ‘চলমান ট্র?্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বন্দি ও তাদের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ করে আসছেন।

২০২৪ সালে দুই বন্দি অন্য বন্দিদের হাতে নিহত হন এবং কয়েকজন জেলকর্মী ঘুষ গ্রহণ ও চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ২০১৯ সালের শীতে এক সপ্তাহের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কারাগারটি অন্ধকার ও প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আচ্ছন্ন হয়। তবে সম্প্রতি ফেডারেল কারাগার ব্যুরো জানিয়েছে, পরিস্থিতি উন্নত করতে তারা কাজ করছে। এমডিসিতে অতিরিক্ত কারা ও চিকিৎসাকর্মী যোগ করা হয়েছে। সাত শতাধিক অমীমাংসিত রক্ষণাবেক্ষণ ত্রুটি সমাধান করা হয়েছে এবং বিচারকদের উদ্বেগেরও জবাব দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, খাবার পরিবেশন, গরম ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায়ও উন্নয়ন আনা হয়েছে।

কারাগারের ভেতরের অপরাধ দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। গত মার্চে ২৩ বন্দিকে অভিযুক্ত করা হয়। কারও বিরুদ্ধে ডরিটোস চিপসের প্যাকেটে অস্ত্র চোরাচালান, আবার কারও বিরুদ্ধে এক খুনের আসামিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ছিল। সেপ্টেম্বরে কারাগার ব্যুরো জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যেখানে বন্দির সংখ্যা ছিল ১৫৮০, তা কমে গিয়ে অপরাধ ও চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সেখানে থাকাকালে যদি প্রাথমিকভাবে কক্ষের বাইরে বের হতে দেয়া হয়, তবে মাদুরো সম্ভবত কিছু পরিচিত মুখও দেখতে পাবেন। তাদের একজন তার সহ-আসামি, ভেনেজুয়েলান সাবেক গুপ্তচর প্রধান হুগো কারভাখাল। তিনি ২০১৯ সালে মাদুরোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দেন। আরও আছেন অ্যান্ডারসন জ্যামব্রানো-পাচেকো। তিনি কথিত ভেনেজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য। তাকে গত বছর নিউ ইয়র্কে অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ডেনভারের এক উপশহরের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা ফুটেজে ধরা পড়েন। এ ঘটনাটি ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরেন। ২০২১ সালের পর থেকে এমডিসি আরও বেশি নজরদারির মুখে পড়ে যখন জেফ্রি এপস্টেইনের আত্মহত্যার পর নিরাপত্তা ঘাটতি ও নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে নিউ ইয়র্কের আরেক ফেডারেল কারাগার, মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর