বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

চট্টগ্রাম নগর সন্ধ্যা নামলেই যানজটে থমকে যায় হাসপাতালপাড়া

মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত:
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:১৭

জিইসি থেকে গোলপাহাড়মুখী সড়কে মেডিকেল সেন্টার, মেট্রোপলিটন ও রয়েল হাসপাতাল রয়েছে। পিক আওয়ারে হাসপাতালগুলোর সামনের সড়কেই গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়।

ট্রাফিক পুলিশের এক জরিপে দেখা গেছে, অন-স্ট্রিট পার্কিংয়ের কারণে শহরের সড়কগুলোতে প্রতি ঘণ্টায় গাড়ির গতি গড়ে ১০ কিলোমিটারের নিচে নেমে আসে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল পাঁচটার পর চট্টেশ্বরী মোড় থেকে গোলপাহাড়, পাঁচলাইশ মোড় থেকে প্রবর্তক হয়ে গোলপাহাড় এবং জিইসি থেকে গোলপাহাড় মোড়—এই তিন সড়কে যানজট সবচেয়ে তীব্র হয়।প্রবর্তক মোড় থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনেও প্রতিদিন দীর্ঘ জটলা লেগে থাকে। এতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রোগী হাসপাতালে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়।চট্টেশ্বরী থেকে গোলপাহাড় মোড় সড়কে ম্যাক্স হাসপাতাল ও ন্যাশনাল হাসপাতালে বিকেল গড়াতেই রোগীর চাপ বাড়ে। হাসপাতাল দুটির পার্কিং থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে স্বাভাবিক সময়ে ১০ মিনিটের পথ পার হতে তখন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লেগে যায়। গোলপাহাড় মোড়ে থাকা মেট্রো ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও বিকেল থেকে রোগীর ভিড় জমে।প্রবর্তক থেকে গোলপাহাড়ের পথে সিএসসিআর, ল্যাবএইড, প্রিমিয়ার বেবি কেয়ার, হেলথ পয়েন্ট হাসপাতালসহ একাধিক ল্যাব রয়েছে, যেগুলোর কোনোটিরই নিজস্ব পার্কিং নেই।

পাঁচলাইশ মোড় থেকে প্রবর্তক হয়ে গোলপাহাড় পর্যন্ত অন্তত ছয়টি ক্লিনিক ও ল্যাব রয়েছে। শেভরণে বড় পার্কিং থাকলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসকের চেম্বারে আসা রোগীদের চাপের কারণে মক্কী মসজিদের সামনে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এরপর প্রবর্তক থেকে গোলপাহাড়ের পথে সিএসসিআর, ল্যাবএইড, প্রিমিয়ার বেবি কেয়ার, হেলথ পয়েন্ট হাসপাতালসহ একাধিক ল্যাব রয়েছে, যেগুলোর কোনোটিরই নিজস্ব পার্কিং নেই।

জিইসি থেকে গোলপাহাড়মুখী সড়কে মেডিকেল সেন্টার, মেট্রোপলিটন ও রয়েল হাসপাতাল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পার্কিং থাকলেও গাড়ি সংকুলান হয় না। পিক আওয়ারে হাসপাতালগুলোর সামনের সড়কেই গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়।

স্বজনকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আসা আবুল হোসেন জানান, হাসপাতালের সামনে বা রাস্তায় একটু জায়গা ফাঁকা থাকে না। রোগী নিয়ে গাড়িতে এলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়, কখনও কখনও অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকে থাকে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রাইভেট হাসপাতালগুলো সরাসরি ঢাকা থেকে অনুমোদন নেয়। অনুমতির সময় পার্কিংয়ের বিষয়টি জানানো হয়। সম্প্রতি মেহেদীবাগে নতুন কয়েকটি ক্লিনিক খোলার আবেদন নাকচ করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে এবং সমাধান না হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে।’

তার মতে, সমস্যার দায় স্থানীয় প্রশাসনের ওপর না চাপিয়ে অনুমোদনদাতা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা উচিত।

এপিক হেলথ কেয়ারের সামনে বিকেল থেকেই দীর্ঘ জটলা তৈরি হয়, যা চট্টগ্রাম মেডিকেলে রোগী আনা-নেওয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে এপিক হেলথ কেয়ারের প্রশাসনিক শাখার কর্মী জাহিদ হাসান জানান, ‘সঠিক তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দিতে পারবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ঠিক বিপরীতে অবস্থান করায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ জ্যামের একটি কারণ। যানজট কমাতে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’

পর্যাপ্ত পার্কিং ছাড়াই এপিক হাসপাতালের অনুমোদন কিভাবে হলো—এ প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার জানা নেই। মালিকপক্ষই অনুমোদনের বিষয়টি জানে।

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক মীর ইয়াসিন বলেন, হাসপাতালের দুটি ভবনেই পার্কিং রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জায়গা দিতে গিয়ে সবার চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। পুরোনো ভবনের পার্কিং বাড়ানোর কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই প্রায় ১০টি গাড়ির পার্কিং যুক্ত হবে। তিনি জ্যামের জন্য হাসপাতালের সামনের ইউটার্ন এবং আশপাশের পার্কিংবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করেন।

চট্টগ্রাম নগরজুড়ে উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পর্যাপ্ত জনবল নেই, আর ট্রাফিক লাইটগুলো এক যুগের বেশি সময় ধরে অকেজো। তবু পুলিশ বলছে, তারা নিয়মিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) মো. লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত মিটিং করে আসছি। কিন্তু অনুমোদন দেওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায়ই দায়ভার ওপর চাপানোর চেষ্টা করে।’


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর