বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

অশান্ত বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের শান্তিরক্ষীরা

কাজী জীম

প্রকাশিত:
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:০৩

যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বের নানা প্রান্তে—মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমি, আফ্রিকার ঘন অরণ্য কিংবা সমুদ্রঘেঁষা অচেনা উপকূলে—স্বদেশের মাটি থেকে হাজার মাইল দূরে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। শারীরিকভাবে তারা অবস্থান করেন বিদেশের মাটিতে। কিন্তু তাদের মন পড়ে থাকে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের স্বদেশে। যেখানে অপেক্ষায় থাকে পরিবার, প্রিয়জন ও সন্তানের মুখ। প্রতিটি মুহূর্তে অনিশ্চয়তা ও বিপদের আশঙ্কা সঙ্গী হলেও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারই তাদের এগিয়ে যেতে শক্তি জোগায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৮৮ সালে United Nations Iran–Iraq Military Observer Group (UNIIMOG)-এ ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক প্রেরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালে United Nations Transition Assistance Group (UNTAG)-এর অধীনে নামিবিয়ায় শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ ছিল দেশের ইতিহাসে প্রথম পূর্ণাঙ্গ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম। নামিবিয়ার স্বাধীনতা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় এক থেকে এক দশমিক আট লাখ সদস্য বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে ৬০টির অধিক জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব মিশনের আওতায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষা, চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তা, মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫৬০০-এর বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত রয়েছেন।

শান্তির এই অভিযাত্রায় ত্যাগের ইতিহাসও কম নয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শত্রুপক্ষের হামলা ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২৭০ থেকে ২৮০ জন।

সম্প্রতি সুদানে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্পোরাল ও সৈনিকসহ ছয় জন শান্তিরক্ষী শাহাদাতবরণ করেন এবং আরও ছয় জন আহত হন। তাদের আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তির ইতিহাসে বাংলাদেশের অবদানকে আরও গৌরবময় করেছে।

ত্যাগের পাশাপাশি অর্জনেও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম। সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের কারণে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। এ পর্যন্ত ছয় জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডার এবং সাত জন কর্মকর্তা ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব অর্জনের মাধ্যমে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাও আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

লাল-সবুজের পতাকা বুকে ধারণ করে অশান্ত বিশ্বের বুকে যারা শান্তির আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন, সেই সাহসী শান্তিরক্ষীদের প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা ও গর্ব চিরদিন অটুট থাকবে।

লেখক: কাজী জীম, শিক্ষার্থী, দ্বাদশ শ্রেণি
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ, ঢাকা।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর