প্রকাশিত:
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:৩১
ইউরোপের দেশগুলোর বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ অনির্দিষ্টকালের জন্য জব্দ করতে সম্মত হয়েছে। এর আওতায় মস্কোর ২ হাজার ৪৬০ কোটি ডলারের (২১০ বিলিয়ন ইউরো) সমপরিমাণ অর্থ ও সম্পদ জব্দ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এসব অর্থ ইউক্রেনের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত শুক্রবার ব্রাসেলসে ইইউ’র সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থ ব্যবস্থা দুর্বল করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং জব্দ অর্থ ইউক্রেনকে ঋণ হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইইউর।
ইউ’র পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কালাস এক এক্স বার্তায় বলেন, ‘ইইউ রাশিয়ার সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য অচল করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি নিশ্চিত করে রাশিয়ার তহবিলের ২১০ বিলিয়ন ইউরো (২৪৬ বিলিয়ন ডলার) তখন পর্যন্ত ইইউর মাটিতে থাকবে, যতক্ষণ না রাশিয়া ইউক্রেনকে তার ক্ষতির জন্য সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়।’
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জোর দিয়ে বলেন, এটি রাশিয়ার কাছে একটি ‘জোরালো সংকেত’ পাঠায় যে যুদ্ধ যতদিন চলবে ততদিন তার খরচ বাড়তে থাকবে।
ইইউ’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে ইউক্রেনকে বাজেট সহায়তা হিসেবে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে প্রদান করা হবে। তবে এক্ষেত্রে ইউক্রেনকে একটি শর্ত পালন করতে হবে। সেটি হলো রাশিয়া যদি দেশটিকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়, তাহলে ইউক্রেনও কিস্তির ভিত্তিতে রাশিয়াকে এই অর্থ বুঝিয়ে দেবে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে দাফতরিকভাবে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ইইউ কর্মকর্তারা।
এদিকে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া এসভিরিদেঙ্কো ইইউ’র এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেন, ‘ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতার বিবেচনায় এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে ইইউ’র এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার অর্থ-সম্পদ চুরির নতুন উপায় বের করেছে।’
রাশিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ‘তারা ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে আবারও মামলা করবে। রাশিয়ার সম্পদ ব্যবহার করা ইইউর জন্য অবৈধ।’
উল্লেখ্য, ইউরোক্লিয়ার হলো আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরি ও সেটেলমেন্ট সিস্টেম, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্পদ সংরক্ষণ ও আর্থিক লেনদেন নিষ্পত্তি করে থাকে। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে এর আগেও মস্কো ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
মন্তব্য করুন: