শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

মনপুরায় সংরক্ষিত বনে গাছ নিধনের হাহাকার; নীরব দর্শকের ভূমিকায় বন বিভাগ

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, মনপুরা (ভোলা)

প্রকাশিত:
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫:২০

ভোলা জেলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। একসময় ঘন সবুজে ঘেরা এই দ্বীপের সৌন্দর্য টিকিয়ে রেখেছিল বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। কিন্তু এখন সেই বনেই চলছে নির্বিচার গাছ নিধনের মহোৎসব। রাতের অন্ধকারে কিংবা দিনের ফাঁকফোকরে কেটে নেওয়া হচ্ছে মূল্যবান গাছ। কোথাও গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে, কোথাও আবার নতুন করে বনের মাঝখান খালি করে তৈরি করা হচ্ছে ‘গোপন পথে’ পরিবহনের রাস্তা।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন বনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত গাছ কাটছে। বনের ভেতর করাতের শব্দ মাঝেমধ্যেই শোনা গেলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অভিযোগ রয়েছে অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গাছকাটা চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বনের অভ্যন্তরে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় কাঁচা গাছের স্তূপ পড়ে আছে। কিছু জায়গায় ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে নতুন করে আগুন দিয়ে ‘মাঠ’ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এতে শুধু গাছই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বনের জীববৈচিত্র্যও। পাখির বাসা, বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল সবকিছু ধ্বংসের মুখে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এমন চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে মনপুরার সবুজ ঐশ্বর্য পুরোপুরি উজাড় হয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা লিটন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান , আমরা বারবার বন বিভাগকে জানালেও তেমন কোনো ব্যবস্থা দেখি না। যারা গাছ কেটে নেয়, তারা এতটাই শক্তিশালী যে সাধারণ মানুষ ভয় পায় কথা বলতে।

এ বিষয়ে মনপুরা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিং বেড়িবাঁধের কাজের জন্য এই গাছ গুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে গেছে। এর পর যে-ই লড গুলো রয়ে গেছে সেগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে গেছে। ভেতর থেকে যে গাছ গুলো কাটা হয়েছে সেই গাছ গুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এ ছাড়াও ভিট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ঘটনাস্থল নিয়মিত পরিদর্শনের কথা দাবি করেন । তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের উপস্থিতি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরিফুল হক বেলাল এর সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

পরিবেশবিদ মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রভাষক মোঃ মফিজুল ইসলাম এর মতে, সংরক্ষিত বনে এভাবে গাছ নিধন চলতে থাকলে মনপুরার পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। উপকূলীয় সুরক্ষা দুর্বল হয়ে যাবে, বাড়বে ভাঙন, কমে যাবে জীববৈচিত্র্য। তিনি আরও বলেন, অনেক প্রাণী আছে আমরা বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন কিন্তু বন উজার করার কারণে সে সকল প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও মানব দেহের জন্য গাছ অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে। যদি গাছ কেটে উজাড় করা হয় তাহলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাবে এবং মানুষের দেহের জন্য ক্ষতি হবে।

মনপুরার মানুষ তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের কথা বন যদি না থাকে, তাহলে মনপুরার অস্তিত্বই একদিন প্রশ্নের মুখে পড়বে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর