প্রকাশিত:
২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ঘর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ করেছিলেন জনৈকা নারী। মূল ধর্ষক আকরাম মিয়া নামে এক ব্যক্তিসহ ৩ জনের নামে ধর্ষণের অভিযোগে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ০১/২৫। ধর্ষক ও তার ৩ সহযোগী ধর্ষণ শেষে ঘরে থাকা নগদ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে লিখিত অভিযোগে জানা গেছে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার একদল পুলিশ ধর্ষকসহ তার সহযোগীদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে বলে নিশ্চিত করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার জাবেদ রহমান।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের পাইকারচর গ্রামের প্রবাসী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ধর্ষিতা জনৈকা ওই গৃহবধূ থানায় সরেজমিনে হাজির হয়ে জানায়, চলতি বছর ২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। লোকলজ্জার ভয় ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ায় মামলা করতে বিলম্ব হয় বলে জানায় ভিকটিম।
আসামীরা হলেন হলেন উপজেলার পাইকারচর গ্রামের আউয়াল মিয়ার ছেলে আকরাম মিয়া (২৮), একই গ্রামের জসীম মিয়া (২৩) এবং সাইদুল ইসলাম সহ অজ্ঞাত নামা আরও কয়েকজন।
এজাহারে ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, ভিকটিমের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদের পাইকারচর ইউনিয়নে, আসামীদের বাড়িও একই গ্রামে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী সৌদি প্রবাসী।
আসামি আকরাম তার স্বামীর আত্মীয় হলেও এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। আগে থেকেই গৃহবধূর প্রতি তার কুদৃষ্টি ছিল বলে জানান।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার স্বাক্ষী ও গুরুতর আহত ৮ বছরের শিশু মেয়ে নুসরাত, নিকট আত্মীয় রমজান, তাসলিমা ও রত্না বেগম নিয়ে নিয়ে লুডু খেলছিল।
দরজা খোলা পেয়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবেঁধে ঘরে ঢুকে প্রথমে টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার লুট করে। বাঁধা দিলে আসামীরা রমজানের হাতে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পূর্বপরিচিত ও মূল অভিযুক্ত আকরাম মিয়া ওই গৃহবধূ ও তার শিশু কন্যাকে বাড়ির পাশে জমিতে নিয়ে যেয়ে মেয়ের গলায় রামদা ঠেকায়। পরে তার সামনেই মাকে ধর্ষণ করে। তখন অন্য সহযোগীরা ঘর ফাঁকা পেয়ে লুটপাট করতে থাকে।
গত ২২ নভেম্বর ( শনিবার) ধর্ষণের স্বীকার থানায় হাজির হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, আমার সাথে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের বিচার চেয়ে আদালত,থানায় ঘুরছি। অজ্ঞাতনামা আসামী সুমন মিয়া গ্রেফতার হলেও কিছুদিনের মধ্যে জামিনে চলে আসে।অন্য কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি।আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান জামাল খান বলেন, এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুর মোহাম্মদ প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছিলেন। বাদিনী আদালতে না রাজি দেওয়ায় এখন অধিকতর তদন্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন: