শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

গাইবান্ধায় শীতের আগমন: কুয়াশা-শিশিরে হেমন্তের মনোরম রূপ

মোঃ আল আমিন, গাইবান্ধা

প্রকাশিত:
১৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:১১

গাইবান্ধায় ঋতুর পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির রূপেও দেখা দিয়েছে নতুন পরিবর্তন। বাংলা কার্তিক মাসের শেষভাগে হেমন্তের শীতল স্পর্শ এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভোরের আলো ফুটতেই গাইবান্ধা পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, রামচন্দ্রপুর, বোয়ালী ইউনিয়ন ও বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মাঠ-ঘাটে নেমে আসছে সাদা কুয়াশার চাদর। ধানের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু মুক্তার দানার মতো ঝলমল করে জানিয়ে দিচ্ছে—শীত এসেছে দরজায়।

শুক্রবার ভোরে এসব এলাকায় ঘুরে দেখা যায় মনোরম এক প্রাকৃতিক দৃশ্য। ধানের পাতায় ঝুলে থাকা শিশির, মাকড়সার জালে আটকে থাকা কুয়াশা আর রাস্তার ধারের ঘাসে জমা টুপটুপে শিশির মিলিয়ে সকালের বাতাসে তৈরি হয়েছে শীতের আগমনী বার্তা।

সদর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আউয়াল বলেন, “কার্তিকের শেষভাগে ভোরের বাতাসে এখন বেশ শীত লাগছে। ধানের পাতায় শিশিরবিন্দু দেখে বোঝা যায় শীত একেবারে চলে এসেছে।”

বোয়ালী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, “এই সময়টা ফসলের জন্য খুবই ভালো। ধান পরিপক্ব হয়। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পড়লে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তারপরও কার্তিকের এই শীতকে আমরা শুভ মনে করি।”

রামচন্দ্রপুর এলাকার কলেজছাত্র রাহাদ বলেন, “কার্তিকের শেষভাগের সকাল সত্যিই উপভোগ্য। শিশিরভেজা মাঠ, কুয়াশায় ঢাকা গ্রাম—সব মিলিয়ে যেন কবিতার মতো এক দৃশ্য।”

বল্লমঝাড় ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ফরমান আলী জানান, “মাঠ-ঘাট, নদীর পাড়, গ্রামীণ পথ—সব জায়গায় শীতের স্পর্শ পাওয়া যাচ্ছে। ভোরে হাঁটতে মানুষ বের হচ্ছে, নদীর ঘাটে ভিড় বাড়ছে। চায়ের দোকানগুলোও ভোর থেকেই জমে উঠছে আড্ডায়। এসময় অতিথি পাখিও দেখা যায় বেশি।”

শিশিরভেজা পাতার ওপর কুয়াশা আর সন্ধ্যার নরম জোছনা মিলেমিশে গাইবান্ধার প্রকৃতিকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলছে। স্থানীয়দের মতে, কার্তিকের শেষ মানেই শীতের শুরু—প্রকৃতির নতুন সাজ, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল আর গ্রামীণ জীবনের উৎসবমুখর আবহ।

উত্তরবঙ্গজুড়ে এরই মধ্যে শীতের প্রকৃত প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে, আর গাইবান্ধার মানুষের দিনের শুরু হচ্ছে শীতের সৌম্য ছোঁয়ায়।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর