বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

মনপুরা'র মেঘনা নদীর উপকূল থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, মনপুরা (ভোলা)

প্রকাশিত:
১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:৪৯

মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীর উপকূল থেকে অবৈধভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে লিয়াকত আলী সন্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জানাযায় ভোলার মনপুরায় ৫০.৭০০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ উন্নয়নের কাজ শুরু হয়২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে । ভোলা জেলা মুজিব নগর মনপুরা উপকূলীয় বাদ পূর্ণবাসন নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এই প্রকল্প টি শুরু করা হয়।

মেঘনা উপকূলের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ করেছে লিয়াকত আলী সন্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেল ৪ টায় মনপুরার প্রান কেন্দ্র হাজীরহাট লঞ্চ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ইতি আক্তার মুন্নী লোড ড্রেজার বসিয়ে মনপুরা দ্বীপের থেকে ২শত মিটার এর ভিতরে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে প্রতিষ্ঠানটি। দিন-রাত মেঘনায় চষে বেড়াচ্ছে একাধিক বালু উত্তোলনকারী ড্রেজারও ।সরকারের অনুমতি নিয়ে বালু উত্তোলন করার দাবি করেন লিয়াকত আলী সন্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত আক্কাস আলী। প্রশাসনের চোখের সামনে বুক চিতিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রতিষ্ঠানটি নেই প্রশাসনের তদারকি।

মনপুরার মেঘনা উপকূলে সরেজমিনে দেখা যায়,হাজীরহাট ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ইতি আক্তার মুন্নী নামের একটি ড্রেজার মনপুরা উপকূলের মেঘনা নদী থেকে প্রায় দুই শত মিটারের মধ্যে বালি কেটে লিয়ন বাইজিদ - ২ নামের একটি বলগেট বোঝাই করছে।
আর এই কাজের ইজারা নিয়েছে লিয়াকত আলী সন্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এসব কিছু দেখভালে নিয়োজিত রয়েছে আক্কাস আলী।

স্থানীয়রা জানান, লিয়াকত আলী সন্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে মনপুরার দুই শত মিটারের মধ্যে তীর থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে কৃষি জমির বিনাশসহ পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। স্থানীয়রা আরো জানান, যখন মনপুরার জন্য এই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল তখন আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলাম। কিন্তু দিন যতই গড়াচ্ছে ততোই দেখছি কাজের অনিয়। মনপুরা কেটে মনপুরা কে ভরাট করা হচ্ছে এখন। হাজিরাট ঘাটের সামনে যে চরটি উঠেছে এই চর টির কারণে হাজীরহাট বাজার বেঁচে গেছে নদীর হাত থেকে। এখন দেখছি নতুন বেড়িবাঁধের কাজের জন্য সেই সকল চরগুলোই কেটে ফেলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে লিয়াকত আলী সন্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বালু উত্তলন এর দায়িত্বে থাকা আক্কাস আলী নাগরিক সংবাদ কে বলেন,গত কালকের বিষয় টি আমি জানি আমার কাছে খবর আসছে। আমাদের লোড ড্রেজার টা বালু খুজে পাচ্ছিলো না। গত বছর যেখানে সেট করা ছিল সে পয়েন্টটা খুঁজে পাচ্ছে না। এরপর আমাদের কাছে যখন গত কালকের বিষয় টি বলছিল তখন বলে দেওয়া হয়েছিল এই নদীর কূল থেকে এক কিলোমিটার দূর থেকে বালি উত্তোলন করার জন্য। আজকে সেভাবে এক কিলো দূরে চলে গেছে। গত কালকে ট্রাই করতে গিয়ে ৩০০ মিটার দূর থেকে বালি কাটছিল পরবর্তীতে সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । আমাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম লিয়াকত আলী সন্স। মনপুরার কাছ থেকে যে বালুটা গতকালকে কাটা হয়েছিল সে বালু আবার পুনরায় কালকে রাতে সেখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। গত কালকে রাতে বালু ফেলে দেওয়ার কোন প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। ভুল মানুষের হতে পারে এক বলগেট বালু কালকে কাটছে। পরবর্তীতে এখান থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এক কিলোমিটার দূর থেকে বালু উত্তোলন করার জন্য। আমি হাজীরহাটের কাছের এই ড্রেজারটার দায়িত্বে আছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আমাদেরকে ১০০০ মিটার দূর থেকে বালি উত্তোলন করার অনুমতি দিয়েছে।

মনপুরা দ্বীপের কাছ থেকে বালি কাটার বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরফ্যাশন মনপুরার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নাগরিক সংবাদ কে বলেন, উপকূল থেকে সর্বনিম্ন ৫০০ মিটার দূর থেকে বালি উত্তোলন করার অনুমতি আছে এবং এ বিষয়টা ইউএনও অফিস জানে। ডিসি অফিস থেকে আমাদের অনুমতি আছে। আমাদের ৫ টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১০ টি করে ড্রেজার থাকলে ৫০ টি ড্রেজার আছে। এখন কোন ড্রেজার কোথায় থেকে মাটি কাটে সেটা আমাদের জানা নেই।

এই বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ফজলে রাব্বি'র সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর