বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মানুষের দূর্দশা চরমে,নেই প্রশাসনিক তৎপরতা

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, মনপুরা (ভোলা)

প্রকাশিত:
১৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:৩৩

ভোলা জেলা মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কলাতলী, শামসুদ্দিন চর,ডাল চরের মানুষ একদিকে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ, অন্যদিকে তিন বেলা খাবার যোগাড়ের কষ্ট। এর ওপর অসুখে মেলেনা পথ্য, শিশুদের যাওয়া হয় না স্কুলে।

সব ধরনের নাগরিক সেবা থেকেই বঞ্চিত থাকছে চর অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। মাঠ পর্যায়ে সরকারের সব দপ্তরের কার্যক্রম থাকলেও দ্বীপবাসীর কাছে অনেক দপ্তরের নাম অজানা।

ভোলা জেলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গুলোর মানুষ এভাবেই বেঁচে আছে।

নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে নানান কার্যক্রম থাকলেও এই দ্বীপগুলোর মানুষ কাছে তার সামান্য পরিমাণও পৌঁছাচ্ছে না। নজরদারির অভাবে এখানে উন্নয়ন সুবিধা পৌঁছাচ্ছে খুবই কম। ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড হিসাবে এখানে যতটুকু উন্নয়ন হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গেলে চর গুলোর মানুষের অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়।

নাগরিক সংবাদ এর কাছে তারা তুলে ধরেন নানা সংকটের বিবরণ। নদীতে মাছ ধরে কিংবা অন্য কোন কাজকর্মে তিনবেলা খাবার যোগাড়টা হয়তো কোনভাবে হচ্ছে, কিন্তু বড় কোন অসুস্থ হলেই তারা বিপাকে পড়েন। কয়েকজন হাতুড়ে ডাক্তারের উপর ভর করে আছে এই চরগুলোর পরায় ১০ হাজার মানুষ। কিন্তু চরের হাতুড়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে না লিখতে অনুরোধ চরবাসীর। কারন এই সকল ডাক্তার ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই চরের বাসিন্দাদের।

কলাতলী কবির বাজারের পল্লী চিকিৎসক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগরিক সংবাদ কে জানান , এখানকার মানুষের সৃষ্টিকর্তা বাঁচিয়ে রাখেন। আমরা কয়েকজন চরবাসীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারি মাত্র। এর চেয়ে বেশি কিছুই করার নেই। এখানে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকা খুবই জরুরি। ওয়ার্ড পর্যায়ে যে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকার কথা, তাও এখানে নেই।

চর কলাতলীর বাসিন্দা রিয়াজ জানান, ট্রলারে প্রায় আড়াই ঘণ্টা নদীপথ পেরিয়ে চর থেকে কিনারে যাওয়া যায়। সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে আরও তিন-চার কিলোমিটার পথ। অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। এখানে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের জোরালো দাবি জানাচ্ছি।

চর কলাতলীর বাসিন্দারা চিকিৎসার পরে শিক্ষা সমস্যার ওপর জোর দিলেন। তারা জানালেন, এখানকার বহু ছেলেমেয়ে স্কুলে যায় না। আবার অনেকে স্কুলে যাওয়া শুরু করতে না করতেই লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়। দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকরা স্কুলে পাঠানোর চেয়ে ছেলেমেয়েদের কাজে পাঠানোকেই বেশি লাভজনক মনে করেন।

চর কলাতলী এসব তথ্যের প্রমাণ মেলে। চরের প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর সবচেয়ে ভালো ছাত্রছাত্রীও বলতে পারলো না দেশের রাজধানীর নাম । সঠিক জবাব দিতে পারেনি আমাদের বিজয় দিবস কবে। এমনকি অনেকে স্কুলের নামটিও ঠিকঠাক বলতে পারলো না। এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতামত , বাহিরের লোক দেখে ওরা ভয়ে জবাব দিতে পারেনি।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর