প্রকাশিত:
১১ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:৪১
ভোলা জেলা মনপুরা উপজেলার অন্তত দেড় লক্ষ মানুষকে ব্যবহার করতে হয় হাজীরহাট ল্যানডিং ষ্টেশন এর এই ব্রিজ টি । মনপুরা উপজেলা থেকে চরফ্যাশন, মোঙ্গলসিক্দার, তজুমুদ্দিন, বোরহানউদ্দিনসহ জেলা সদরে যেতে অপরিহার্য সেতুটি থেকে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার যাত্রী পাড়াপাড় হতে হয় লঞ্চে করে । কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সেতুটি চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে গেছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ঘাটে মেঘনা নদীর উপর এ সেতুটি হাজীরহাট ল্যান্ডিং স্টেশন হিসেবে পরিচিত ।
৩০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থের সেতুটি ২০০২ সালে নাজিম উদ্দিন আলম নির্মাণ করে । কনক্রিট দিয়ে ছোট ছোট ৬ টি পাটাতনসহ নির্মাণ করা হয়েছে সেতুটি। কনক্রিট এর ৬০ টি পিলারের উপর সেতুটি তৈরি করা হয়েছে নদীর ৩০০ মিটার মাঝখানে ।
সম্প্রতি হাজীরহাট ল্যান্ডিং স্টেশনের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ২০২২ ও ২০২৪ সালে ব্রিজটির মাথার ও মাঝখানের ২০ টি পিলার সহো তিনি পাটাতন নদীর গর্ভে তলিয়ে যায় । এবং ব্রিজটির প্রথম থেকে ৩ নাম্বার পাটাতনের ১০ টি পিলারের মধ্যে ১ টি পিলার কিছুদিন আগেই মনপুরার মেঘনায় তলিয়ে যায় । ব্রিজ টির ৩ টি পাটাতনের ২৯ টি পিলার এবড়ো-থেবড়ো অবস্থায় আছে।
স্থানীয়রা জানান এর মধ্যে চিকিৎসা, জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মনপুরা উপজেলার দৈনিক প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার মানুষকে এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন প্রাত্যহিক কাজে নৌকা,লঞ্চ, ট্রলার উঠতে হয়। এই ব্রিজটি দিয়ে, প্রতিদি নসিমন, ঠেলাগাড়ি করে মনপুরার ব্যাবসায়ীদের মালামাল আসা যাওয়া করে । মালামাল বোঝাই করে নসিমন, ঠেলাগাড়ি করে অন্তত ৩০ জন লেবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হয় ।
চরযতিন এলাকার বাসিন্দা লেবারের সর্দার কামাল উদ্দিন (৫৮) নাগরিক সংবাদ কে জানান , 'এই ব্রিজ টি দিয়ে মালামাল নিয়ে ভয়ে ভয়ে পাড়াপাড় হতে হয় । আবার যখন ভাটা থাকে তখন মালবাহী জাহাজ, ট্রলার,লঞ্চ ব্রিজের নিচে পরে থাকে। যখন মালামাল নেওয়ার জন্য জাহাজে নামি তখন মনে হয় এই বুঝি ব্রিজ টি ভেঙ্গে জীবন টা শেষ হয়ে গেলো।
হাজীরহাট এলাকার বাসিন্দা মফিজ (৪৫)নাগরিক সংবাদ কে জানান , শিতের সময় হাজার হাজার পর্যটক এই মনপুরা দেখতে আসে।তারা বিকেল বেলায় হাজিরহাটের এই ব্রিজ টিতে বসে মনোরম পরিবেশে সময় কটাতো । কিন্তু এখন আর ঘুরতে আসা পর্যটক রা এই ব্রিজ টিতে ভয়ে বসে না কারন কখন জানি এই ব্রিজ টি মেঘনায় তলিয়ে যায়। তিনি আরো জানান গত ৭-৮ বছর ধরে ব্রিজ টির এই অবস্থা । এলাকার জনপ্রতিনিধিদের অনকবার জানিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ফজলে রাব্বি'র সাথে একাধিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
মন্তব্য করুন: