প্রকাশিত:
১০ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:৩৭
নরসিংদীর মেঘনা নদীর খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর এলাকায় শহিদ মেম্বার ও চাঁন মিয়া গ্রুপের মধ্যে টেটাযুদ্ধে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খেয়াঘাটের ভাড়া বৃদ্ধি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁন মিয়া গ্রুপ ও শহিদ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত সপ্তাহে দুই দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন টেটাবিদ্ধ হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও শনিবার সকালে পুলিশ না থাকার সুযোগে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে দুই পক্ষ টেটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। প্রায় আধঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকেই স্থানীয়ভাবে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, চলতি বছরের ১ জুলাই রসুলপুর–জিতরামপুর–শান্তিপুর খেয়াঘাটটি জনপ্রতি ৪ টাকা ভাড়ায় ইজারা পান স্থানীয় শফিকুল ইসলাম সেন্টু। পরবর্তীতে তিনি ইজারাটি বিক্রি করে দেন জিতরামপুর গ্রামের চাঁন মিয়ার কাছে। কিন্তু নির্ধারিত ৪ টাকার পরিবর্তে যাত্রীপ্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করতে থাকেন চাঁন মিয়া। এতে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটতে থাকে।সম্প্রতি ৪ নভেম্বর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। পরে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওহাব রাশেদ ইজারাদার শফিকুল ইসলাম সেন্টুর ইজারা বাতিলের নির্দেশ দেন।ইজারা বাতিলের পর খেয়াঘাট বন্ধ থাকায় বর্তমানে ওই এলাকার হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই জেলে নৌকা ভাড়া করে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত গুনে নদী পার হচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে খেয়াঘাটকে ঘিরে এই বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত বিকল্প নিরাপদ খেয়া ব্যবস্থা ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন: