প্রকাশিত:
৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:৪২
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে সাতক্ষীরায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর সাতক্ষীরা-২ ও সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিক্ষোভ, মশাল মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা।
সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিনেরপোতা বিসিক মোড়ে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল আলীমের সমর্থকরা মশাল মিছিল করেন। একই রাতে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা বাজারে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মো. শহিদুল আলমের সমর্থকরা বিক্ষোভে অংশ নেন।
পরদিন মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে, সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ মহাসড়কের নলতা এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি—সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে ডা. মো. শহিদুল আলমকে পুনরায় মনোনয়ন দিতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন মাঠে থেকে দলের জন্য কাজ করেও মনোনয়ন না পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিনেরপোতা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা হাতে মশাল নিয়ে ‘তৃণমূলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা চলবে না’, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে’— এমন স্লোগান দিতে দিতে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
অন্যদিকে নলতা এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের ফলে ওই সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।
সাতক্ষীরার চারটি আসনে ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন—
সাতক্ষীরা-১ আসনে হাবিবুল ইসলাম হাবিব,
সাতক্ষীরা-২ আসনে আব্দুর রউফ,
সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীন,
এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে ডা. মনিরুজ্জামান।
স্থানীয় নেতারা বলছেন, সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন মুখকে প্রার্থী করায় দলের ভেতরে ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন: