প্রকাশিত:
২২ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:১৬
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়ন আমডালা বাজারে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র আওতায় হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণে ভয়াবহ অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় ডিলার এহসানুল হক, যিনি প্রতিটি ৩০ কেজি চালের বস্তা থেকে ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত কম দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চালের বস্তা ওজনে তুললেই কারচুপির সত্যতা মিলছে। অন্তত ১০ থেকে ১২টি বস্তায় ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত চাল কম পাওয়া গেছে। হতদরিদ্ররা প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “আমরা সামান্য টাকায় চাল কিনতে এসেছি, এখানেও যদি প্রতারণা হয়—তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা কোথায়?”
স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, এ কর্মসূচির আওতায় ৩৯২ জন হতদরিদ্র ১৫ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহ করেন। প্রতিজনকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও ডিলার নানা কৌশলে ওজনে কম চাল দিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার এহসানুল হক বলেন, “চাল মিশ্রণ মিল থেকেই কম এসেছে। কিছু বস্তা ফাটা থাকায় আলাদা রাখা হয়েছে।”
কিন্তু তার এই ব্যাখ্যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন জেলার চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস.কে.এম এন্টারপ্রাইজ-এর মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, “আমাদের মিল থেকে ওজনে কম চাল দেয়ার প্রশ্নই আসে না। কোনো ডিলার আপত্তি জানায়নি, তাহলে মাঠে গিয়ে কারচুপি করাটা তাদের নিজেদের অপকর্ম।”
শিবালয় উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শামসুন্নাহার বলেন, ১০০ গ্রাম চাউলও কম দেয়ার সুযোগ নেই। যদি কোন ডিলার ওজনে কম দিয়ে থাকে, আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানাবো, তাদের নির্দেশেনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, “খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন। ওজনে কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারের একটি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে কিছু অসাধু ডিলার নিজের পকেট ভারী করার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে হতদরিদ্রদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
মন্তব্য করুন: