শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

মানিকগঞ্জে উন্নয়ন সহয়তা প্রকল্পের টাকা নিয়ে নয় ছয় করার অভিযোগ ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

মোঃ আনোয়ার হোসেন, মানিকগঞ্জ

প্রকাশিত:
১৮ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:৩২

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ৭নং শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অর্থবছর শেষ হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের কাজ।

সরজমিন থেকে জানা যায়, ৭নং শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের প্রথম দফায় ৬ লাখ ৭২ হাজার ৮ শত টাকার বরাদ্দের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। দ্বিতীয় দফায় আরও ৬ লাখ ৭২ হাজার ৮ শত টাকা তহবিলে জমা হলেও, এখনো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চার মাস আগে অর্থবছর শেষ হলেও দ্বিতীয় দফার কাজ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ।

শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জহির উদ্দিন পালিয়ে গেছেন। ইউপি সদস্যদের মধ্যে ঐক্যমত না থাকায় উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের দ্বিতীয় দফার কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য বিভিন্ন অজুহাত দিচ্ছেন বর্তমান প্রশাসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোঃ মিরাজ হোসেন। গত অর্থবছরের শেষ সময়ে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ এলেও এখনো পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি।

এ বিষয়ে ৭নং শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোঃ মিরাজ হোসেন বলেন, “৫ আগস্টের পর সরকার ব্যবস্থা ভঙ্গুর থাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। ইউপি সদস্যদের মধ্যেও ঐক্যমতের অভাব রয়েছে। বরাদ্দের টাকা আমাদের একাউন্টে দুই মাস আগে জমা হয়েছে। উন্নয়ন সহায়তার টাকা নয়-ছয়ের কোনো সুযোগ নেই। আমরা ইউএনও স্যারের কাছে কাজের তালিকা দিয়েছি। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন শিমুলিয়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা টাকা আত্মসাৎ করার জন্য নয় ছয় তাল বাহানা দেখাচ্ছেন যাতে আর কাজ না করতে হয় অর্থবছর পার হলেও কাজের কোন তদারকি দেখা যায়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, “এ ধরনের প্রকল্পের কাজ সাধারণত জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে করা হয়। টাকা বরাদ্দের পর এটি জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা উচিত। যদি এটি সময়মতো বাস্তবায়ন না হয়, তবে দায়িত্বশীলদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা না ঘটে।”

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।”

মানিকগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, “অর্থবছর শেষ হয়ে গেলে কাজ না করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে জেলার স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক শাহনাজ সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর