বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

ফসলি জমি ভরাট করে অনুমোদনবিহীন কারখানা নির্মাণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

মো.সুজন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত:
১৮ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:২৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফসলি জমি ও জলাধার ভরাট করে অনুমোদনবিহীন কারখানা নির্মাণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রাধিকা–নবীনগর সড়কের পাশে বার আউলিয়া বিল এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার।

এ সময় জমির মালিক নবীনগর উপজেলার নাড়ুই গ্রামের দারু মিয়ার ছেলে ফালু মিয়া (৫২)-কে ফসলি জমি ও জলাধার ভরাটের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অনুমোদনহীনভাবে স্থাপিত টায়ার কারখানায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের সময় কারখানার মালিক বা ব্যবস্থাপককে পাওয়া না গেলেও শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শ্রমিকদের আটক না করে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কারখানাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দপ্তরে হাজির হওয়ার নোটিশ প্রদান করা হয় বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসান।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, কারখানাটিতে পুরোনো টায়ার পুড়িয়ে কালো তৈলাক্ত পদার্থ থেকে ‘গ্রীন অয়েল’ নামের এক ধরনের জ্বালানি তেল তৈরি করা হচ্ছিল। এ সময় কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ মজুত পাওয়া যায়, যা টায়ার পোড়ানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সারাদিন কারখানাটি বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পর চুল্লিতে টায়ার পোড়ানোর কাজ শুরু হয় এবং রাতভর তা চলতে থাকে। উৎপাদিত তরল পদার্থ বড় লোহার কনটেইনারে সংরক্ষণ করে পরে বাজারজাত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টায়ার পোড়ানোর ফলে বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই–অক্সাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ুদূষণ ঘটিয়ে শ্বাসকষ্ট, ত্বকের সমস্যা ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া পোড়ানো টায়ারের ছাইয়ে থাকা ভারী ধাতু মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানিকেও দূষিত করে।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, সদস্য সোহেল রানা ভূঁইয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’ বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং দৈনিক নাগরিক সংবাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রচারিত হলে দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসে ও পরবর্তীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।




মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর