প্রকাশিত:
১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:৫৪
ককসবাজারের মহেশখালীর দখল হওয়া হাজার হাজার একর প্যারাবন উদ্ধার করে প্যারাবন রোপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রায় এক বছর। কিন্তু এখনো কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মহেশখালী সচেতন নাগরিক সমাজ। কেন? পড়ে আছে কোর্টের আদেশ। রহস্য খুঁজে পাচ্ছে না কেউ। আজকে এই চিংড়ি ঘের দখলে নিতে আমদানি হচ্ছে বিদেশি অস্ত্র, এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে পরাজিত করতে বাহির থেকে ভাড়া করছে সন্ত্রাসী বাহিনী। আক্রান্ত হচ্ছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও।
বিগত দু একবছর লবণের অতিরিক্ত দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এই বারো হাজার একর প্যারাবন নিধন করেছে কালো চক্র। অনেকে বলেছেন প্যারাবন নিধনকারিরা ক্ষমতার অধিকারির পাশাপাশি অবৈধ কোটি টাকার মালিকও। যার ফলে গুটিকয়েক সাংবাদিক ও কিছু পরিবেশবাদী নেতা ছাড়া বাকি সব তাদের কাছ থেকে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে চুপ রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)র মহেশখালী উপজেলা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলাধীন সোনাদিয়া দ্বীপ ও আশপাশের এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট।
১৯৯৯ সালে সরকার সোনাদিয়া দ্বীপকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। সম্প্রতি এই দ্বীপ ও আশপাশের এলাকা, যেমন: ঘটিভাংগা, তাজিয়াকাটা ও হামিদার দিয়া এলাকায় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট নিধন করে অবৈধ চিংড়ি ঘের তৈরির মহাযজ্ঞ চলছে। এই বিষয়ে প্রথম আলো, আমার সংবাদ, ডেইলি স্টার, ডেইলি পোস্টসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এই বিষয়ে আশু ব্যবস্থা নিতে সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, BEZA, পরিবেশ ও বন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর, জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার এবং পুলিশ সুপার, কক্সবাজারসহ ১২ জনকে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এক রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৩ অক্টোবর ২৪ ইংরেজি মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি জনাব ফাতেমা নজিব ও মাননীয় বিচারপতি জনাব শিকদার মাহমুদুর রাজী-এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালত সকল অবৈধ চিংড়ী ঘেড় উচ্ছেদের পাশাপাশি এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী জনাব মো: রহিম উল্লাহ, মহেশখালী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জনাব জয়নাল আবেদিন, মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জে এইচ এম ইউনুস সহসাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এম আজিজ সিকদার, ও মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাব সহসভাপতি সিরাজুল মোস্তফা রুবেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জন ছাত্রসহ মোট ১২ জন মহেশখালীর বাসিন্দার এপক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টর আইনজীবী জনাব মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন রীটতি দায়ের করেন। রীট আবেদনটি শুনানি করেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী জনাব মোহাম্মদ শিশির মনির। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখালী বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আয়ুব আলী জানান ঐ জায়গা গুলো এখনো বেজা কতৃক বন বিভাগকে বুঝিয় দেয়নি। ঐ জায়গা গুলো নিয়ে বড় ধরণের রাজনীতি চলছে বলে মনে করছেন তিনি। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন বনবিভাগের সচিব মহোদয় গত মাসে পরিদর্শনে এসেছিলেন, ওখানে ক্যাম্প স্থাপন করা হবে, এবং শীগ্রই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।
মন্তব্য করুন: