প্রকাশিত:
১৩ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:২৯
মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শ্রীনগর বাজারটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। সরেজমিনে বাজারের বিভিন্ন অলি-গলি ঘুরে দেখাগেছে, বাজারে মূল প্রবেশ পথ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও শ্রীনগর সার্কেল কার্যালয়ের পশ্চিম পাশের দেয়াল ঘেসে। আর মূল পথ থেকে শুরু করে বাজারের প্রায় প্রতিটি অলি-গলির দু’পাশে ফুটপাত দখল করে ছোট ছোট চৌকি বসিয়ে কতিপয় ব্যক্তি বছরে পর বছর বিভিন্ন ফল, তরকারিসহ নানা ধরনের পন্য সামগ্রী বিক্রী করে যাচ্ছে।
আর এভাবে বাজারের ফুটপাত দখলের ফলে সরু পথে ক্রেতা ও সাধারণ পথচারিদের চলাচলে নানা ধরনের সমস্যায় পরতে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের পন্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রে কোন নিদিষ্ট সময় সিমা না থাকায় বাজারের বিভিন্ন অলিগলি গুলোতে সর্বদা চলছে দোকানীদের নানা ধরনের পন্য আনা নেওয়ার কাজ। প্রতিনিয়ত পন্য আনা নেওয়ায় ফলে ক্রেতা ও পথচারীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্যস্ততম এ বাজারের উপড় দিয়ে শ্রীনগর সরকারি কলেজ, শ্রীনগর সরকারি পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ, শ্রীনগর সরকারি সুফিয়া এ হাইখান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সর্বদা চলাচল করে থাকে।
এছারা বাজারে অবস্থিত শ্রীনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, অগ্রনী ব্যাংক,পুর্বালী ব্যাংক, সোস্যাল ব্যাংক, বীমা কোম্পানী অফিসসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্ব পূর্ন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। জনগনের চলাচলের সুবিধার্থে বাজারে প্রবেশ করার জন্য কয়েক বছর পূর্বে বাজরের পশ্চিম পাশ দিয়ে শ্রীনগর খালের ওপর দিয়ে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলেও এ ব্রীজটির প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে বাজারের কবুতর হাটা পর্যন্ত দু’পাশ দখল করে কাঁচা-তরকারি, মাছ, ফলসহ বিভিন্ন ধরনের পন্য সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। এছারা সামান্য বৃষ্টি হলেই কবুতরহাটায় পনি জমে থাকে। আর ময়লা-দুগন্ধ মিশ্রিত পানি ও কাঁদা পেরিয়েই ক্রেতা সাধারণকে চলতে হয়। ব্রীজটির প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে কবুতরহাটা পর্যন্ত সর্বদাই ইজিবাইক দেখা যায়।
ফলে পথচারি ও ক্রেতা সাধারনের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ বাজরের বিভিন্ন প্রশেমুখ গুলো দিয়ে প্রতিদিন শ্রীনগর উপজেলা ছড়াও পার্শ্ববর্তি সিরাজদিখান ও লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে ঐতিহ্যবাহী শ্রীনগর এ বাজারটিতে। বাজারটিতে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারনে কাচাঁ তরকারী ও মাছ বাজরের পানিসহ মুরগীর বিছা,পট্রি মুরগী ড্রেসিংয়ের ময়লা পানি, বাজারে জবাইকৃত গরু-খাসির রক্ত ও গোবর মিশ্রীত দূর্গন্ধ যুক্ত পানি ক্রেতা সাধারনের পায়ে লেগে পুরো বাজারের অলি-গলিতে ছরিয়ে পরে। এছারা বাজারে ময়লা আবর্জনা ফেলার কোন নিদিষ্ট স্থান না থাকার কারনে দোকানিরা যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলছে। ময়লা-আবর্জনার দূর্গন্ধ নিয়েই চলছে ক্রয়-বিক্রয়। আর সামান্য বৃষ্টি হলেই বাজারের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে।
ফলে ময়লা কাদা মিশ্রিত পানি পুরো বাজার শ্যাত শ্যাতে ও পিচ্ছিল হয়ে পরে। বাজারের প্রবেশ মুখ গুলো সরু হওয়ায় হঠাৎ বজারের কোথাও আগুন লেগে গেলে নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে করতে পারেনা। গত ১৫ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২ টার দিকে বাজারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বাজারের প্রায় শতাধিক দোকানঘর পুরে যায়। বাজারের প্রবেশ মুখের রাস্তাগুলো শরু হওয়ার কারনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গুলো ঘটনা স্থলে পৌছাতে পারেনি। সঠিক সময়ে ঘটনা স্থলে পৌছাতে পারলে হয়তো ক্ষয় ক্ষতির পরিমান অনেকটা কম হত। এছারা বাজারের ভিতর কোন কারনে কেউ অসুস্ত কিংবা কারও দুর্ঘটনা ঘটলে হাসপাতালে নিতে এম্বুলেন্স প্রবেশ দুরের কথা ভ্যান কিংবা অটোরিকসা নিয়ে বাজারের ভিতর প্রবেশ করানোই দুস্কর হয়ে ওঠে। এছারা বাজারের ভিতর কোথাও কোন বৈদ্যুতিক লেম্পপোষ্ট নেই।
দোকানীরা ব্যবসা শেষে রাতে দোকান বন্ধ করলে পুরো বাজার অন্ধকারে নিস্তব হয়ে পরে। বিশাল এ বাজারটি মাত্র ৫ জন পাহাড়াদার দিয়ে পাহাড়ার কাজ চালান হচ্ছে। প্রায় দেড় যুগ পরে নিবার্চনহীন বাজারটিতে আগামী ইংরেজি ১৮ অক্টোবর বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাজার কমিটির নেই কোন নিজস্ব অফিস। বাজার করতে আসা একাধিক ক্রেতা ও সাধারণ পথচারিরা বলেন, বাজারে চানমস্তান মাজারের উত্তর পাশে শ্রীনগর খালের উপর দিয়ে ধানহাটা বরাবর একটি ব্রীজ নির্মাণ করলে, জরুরী প্রয়োজনে ফায়ারসার্ভিস,এম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন অনায়াসে বাজারের কাছাকাছি পৌছাতে পারতো বলে বাজার ব্যবসায়ীরা মনে করনে।
মন্তব্য করুন: