শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বীজ বিক্রয়ের অভিযোগ

আনোয়ার হোসেন, কুষ্টিয়া

প্রকাশিত:
৫ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:২০

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাইসুল ইসলামের বিরুদ্ধে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বীজ গোপনে বিক্রি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি, সার সংকট মোকাবিলায় অবহেলা এবং কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ না দেওয়ায় ভুক্তভোগী কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা কৃষি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আসন্ন রবি মৌসুমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের জন্য সরকার কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ বরাদ্দ দেয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই বীজ কৃষকদের মধ্যে বণ্টন না করে কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম গোপনে বিক্রি করছেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় মনিরুল ইসলাম নামের এক কৃষক সরকারি বীজ নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক ব্যাক্তি আটক করে দেখে সেখানে সরকারি বীজ ছিলো। ওই কৃষক প্রতিবেদককে জানান, “কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম আমাকে সরকারি বীজ বিক্রির জন্য দিয়েছেন। কিছু লাভ আমি রাখব, বাকিটা তাকে দিতে হবে।”

অভিযোগ রয়েছে, কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম ২০২০ সাল থেকে একই উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। পদোন্নতি পাওয়ার পরও তিনি এখানেই থেকে গেছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে তিনি বছরের পর বছর একই পদে থেকে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ও আফরোজা খাতুনও প্রায় দুই দশক ধরে একই উপজেলায় কর্মরত আছেন। কৃষকদের অভিযোগ তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা তারা পায় না।

স্থানীয় কৃষক আজিজুল হক বলেন, প্রতি বছর সরকার আমাদের বিনামূল্যে বীজ দেয়। কিন্তু এবার কৃষি অফিসে গেলে বলে, বীজ শেষ। অথচ আমরা দেখেছি সরকারি বীজ বাইরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া যে বীজ পেয়েছি, সেগুলো খুবই নিম্নমানের—চারা গজায়নি।

এ ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাইসুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সরকারি বীজ বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত নই। দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থাকার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায়ই হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিকাইল ইসলাম জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “কৃষি বিভাগ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”

প্রতি বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। তবে স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়মের কারণে অনেক সময় প্রকৃত কৃষকরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর