বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

ঘোড়াশালে রাসেলের পানের সুগন্ধি পথাচারীর নজর কাড়ে

বোরহান মেহেদী, পলাশ (নরসিংদী)

প্রকাশিত:
১ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:৩১

পান আর গান এই দুইয়ে নেচে উঠে বাঙালির প্রাণ। আসেন, আইসা বসেন বেয়াইন, মসলা পান কিমাম দিয়া খাইবেন। আন্নের ঠোঁটের রং দেইখা, বেয়াইয়ের মন উঠবে চইড়া। তাছাড়া লোক সংস্কৃতিতে আরো বহু শ্লোক আছে, যা বাঙালি মনে চিরন্তন বাংলাকে জাগ্রত করে তুলে। গোলা ভরা ধান, কৃষাণির মুখে পান। মধুমুখে ঠোঁট লাল, কৃষক বায় সুখে হাল।

পান বাংলাদেশে একটি অতি পরিচিত নাম। নানি-দাদিদের অনেকেরই অভ্যাস থাকে এ পান খাওয়ার। ছোটরা যে খায়না তা কিন্তু নয়। এদেশে পানের চাহিদা অনেক। দেশে বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হয়। পানের বেশ কয়েকটি জাত রয়েছে। যেমন দেশিজাতের পানের মধ্যে রাজশাহী, বরিশাল ও চিটাগাংয়ের মহেশখালির পান।

এলাকাভিত্তিক পানের স্বাদ আলাদা। এর মধ্যে আবার হেচিপান বেশ সুগন্ধযুক্ত। তবে মসলা, সুপারি, জর্দা ব্যবহারে খাওয়ার মধ্যেই পানের মজা অতুলীয়। ঘোড়াশাল সাদ্দাম বাজারের সম্মুখে রাসেলের পান সম্ভার । প্রতিদিন অন্তত ৫০ প্রকারের পান বানিয়ে বিক্রি করে। পানের নামকরণের ফর্দি বেশ বড়। সুপারি পান, জর্দা সুপারি পান, মিষ্টি মসলা পান, মধু পান, কস্তুরি পান ও অগ্নিপান এমনি বহুপ্রকার পান বিক্রি করে থাকেন তিনি।

প্রতিটি পান ৫ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা দামের পর্যন্ত পান পাওয়া যায় এই পান দোকানে। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে পান রসিকরা এখানে এসে পান খেতে ভিড় জমান। এছাড়া বাংলা লোকজ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন মেলায় মুখরচক কস্তুরীপান বিক্রেতা ফেরিওয়ালাদের দেখা মেলে। ওরা হাঁক ছেড়ে পান বিক্রি করেন।

আবার গ্রামের বিয়ে বাড়ি, খাতনা উৎসব বা সামাজিক বড় মেজবানি খাবারের পর অনেক জায়গায় বিশেষ পান পরিবেশন যেন একটি সুন্দর ও আমোদী রেওয়াজ রয়েছে। এখানে পান পরিবেশনের বিষয়টি সব জাত-ধর্মে সবার মধ্যেই বিদ্যমান দেখা যায়।

জানা যায়, পানের রসের মধ্যে থাকা সুপারি, চুন, লবঙ্গ, গুলকন্দ হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। শুধুমাত্র হজম শক্তিই যে পান বাড়ায় তা নয়, সুগন্ধি হিসেবেও কাজ করে পান। পাশাপাশি, পানের মধ্যে থাকা গুলকন্দ কর্ম ক্ষমতা বাড়িয়ে সচল রাখে শরীরকে। যৌন জীবন সতেজ রাখতে পানের গুণাগুণ অপরিসীম।

ভ্যাজাইনাল হাইজিন ঠিক রাখে, ত্বকের জন্য, মাথা ব্যথা কমায়, সতর্কতা বাড়ায়, সর্দি কমায়, হজমশক্তি বাড়ায়, মেটাবলিজম বাড়ায়, খিদে বাড়ায়, ক্ষত নিরাময়ে, গলা খুসখুস কমাতে, মাউথ ফ্রেশনার, নাক থেকে রক্ত পড়া থামায়, কানের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

পান চিবানো একটি মজার অভ্যাস। পান চুন খয়ের কিমাম সুগন্ধি মসলা দিয়ে পান খাওয়াটা সত্যি বাঙালি সমাজের আদি একটি লোভনীয় স্বাদের নেশা। অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে কেউ কেউ সারাদিন খাবার না খেয়ে থাকতে পারে কিন্তু পান না খেয়ে থাকতে পারেন না। শুধু বাংলাদেশ নয় ভারত ও পাকিস্তানেও পান খাওয়ার প্রচলন আদিকাল থেকেই চলে আসছে।




মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর