বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

বৃষ্টির রাতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল দিনমজুর সাঈদের

মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী

প্রকাশিত:
১ অক্টোবর ২০২৫, ১৪:২৯

নোয়াখালী সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নে বজ্রপাতে মো. সাঈদ (২৯) নামে এক দিনমজুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরমটুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে একই গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

নিহত মো. সাঈদ পূর্ব চরমটুয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতের শেষ প্রহরে এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এ সময় আকাশে থেমে থেমে বজ্রপাত হচ্ছিল। রাত প্রায় ২টার দিকে সাঈদ বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে মাছ ধরতে বের হন। ধারণা করা হচ্ছে, মাছ ধরার একপর্যায়ে হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি তার আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। সকালে গ্রামের কয়েকজন লোক ধানক্ষেতে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহতের ছোট ভাই মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ভাই রাতে ঘুম থেকে উঠে বলে মাছ ধরতে যাবে। আমরা তাকে না যেতে বলি, কিন্তু সে বলে একটু দেখে আসি। এরপর সে আর ফিরে আসেনি। সকালে শুনি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে আছে।

তিনি আরো বলেন বজ্রপাতের সময় বাইরে অবস্থান করাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, বজ্রপাতের সময় উন্মুক্ত স্থানে, ধানক্ষেত, নদী বা পুকুরের আশপাশে থাকা প্রাণঘাতী হতে পারে। গত কয়েক বছরে দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

স্থানীয় চরমটুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাঈদের মৃত্যুতে আমরা অত্যন্ত শোকাহত। সে অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের একজন যুবক ছিল। পরিবারটি খুবই গরিব, দিনমজুরি করেই চলত। এখন তার মৃত্যুতে পরিবারটি আরও অসহায় হয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা তার দাফন-কাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বজ্রপাতে মৃত্যুর হার কমাতে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা জনসচেতনতা কার্যক্রম চালালেও, দুর্ঘটনা রোধ করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, ধানক্ষেত, জলাশয়, গাছপালা ও ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে এবং নিরাপদ ঘরে অবস্থান করতে হবে।

মো. সাঈদের অকাল মৃত্যু যেন আরেকটি সতর্ক সংকেত আমাদের জন্য, যারা প্রতিদিন জীবন ও জীবিকার টানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হন।

ঘটনার খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত করে মরদেহ উদ্ধার করে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের একটি টিম পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে এটি বজ্রপাতে মৃত্যু বলেই ধারণা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর