বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

প্রতিবন্ধী হয়েও জীবিকা নির্বাহের জন্য জীবন যুদ্ধে হার না মানা কুষ্টিয়ার চার (৪) প্রতিবন্ধী

আনোয়ার হোসেন, কুষ্টিয়া

প্রকাশিত:
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:১৮

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও থেমে নেই কর্ম জীবন। তিন জনের নিজ পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানোর শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আর একজন চোখে দেখেন না। তবুও তারা থেমে নেই। জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে সকল বাধা-বিপত্তিকে পেছনে ফেলে বেছে নিয়েছেন কর্মজীবন। এমনি চারজন প্রতিবন্ধীর হার না মানা জীবন সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে নাগরিক সংবাদ প্রত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের গোড়ারপাড়া গ্রামের কৃৃষক ছামেদুল। দশ বছর বয়সে পোলিও রোগের কারণে তার দুটো পা চিকন হয়ে শুকিয়ে যায়। ধীরে ধীরে ছামিদুল পায়ে হেটে চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। চলাফেরা করেন দুই হাতের উপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে। আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে হয় ছামিদুলকে। বলতে গেলে সেই থেকে জীবন সংগ্রাম শুরু তার। অনেক প্রতিবন্ধী জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিলেও সামেদুল সে পথ মাড়াননি। বরং দৃঢ় মনোবল ও মনের তীব্র ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য বেছে নেন কৃষি কাজ। সামান্য পৈত্রিক জমির পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়েও চাষাবাদ করেন তিনি। সংসার পেতেছেন। তিন মেয়ের মধ্যে ২ জনকে বিয়েও দিয়েছেন। ছামেদুলের মতই একই এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধী রইচ উদ্দিন, জামরুল ইসলাম, ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী টিপু নেওয়াজ । কারো কাছে সাহায্যের হাত না পেতে তারাও পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন কৃষি কাজ। এই ৩ প্রতিবন্ধী বর্গা চাষীও নিজের ক্ষেত খামারের কাজ নিজেই সামলান।

এই ৪ প্রতিবন্ধীর হার না মানা জীবন সংগ্রাম পরিবারসহ স্থানীয়দেরও অনুপ্রাণিত করছে। কৃষি বিভাগ বা সরকার যদি বিশেষ প্রণোদনা দেয়, তাহলে আরো ভালোভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন বলে জানান স্থানীয়রা।

তবে এই চার প্রতিবন্ধীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম, তিনি বলেন আমরা শুনেছি আমাদের উপজেলাতে চারজন শারীরিক প্রতিবন্ধী রয়েছে। কিন্তু কারো কাছে সাহায্যের হাত না পেতে তারা পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন কৃষি কাজ। আমরা দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে সার বীজ সহ আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবো।

কুষ্টিয়া জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ শেখ দৈনিক নাগরিক সংবাদ পত্রিকার প্রতিবেদকের মাধ্যমে বলেন, জেনেছি দৌলতপুর উপজেলার, প্রাকপুর ইউনিয়নের, গোড়াই পাড়া গ্রামে চারজন প্রতিবন্ধী রয়েছে। তারা জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী নয় পরে অসুস্থ হয়ে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়েছেন। কুষ্টিয়া জেলা সমাজসেবা অফিস প্রতিবন্ধী কার্ডের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াবে।

সমাজের চোখে বোঝা হয়ে বাঁচতে চাই না সামেদুল সহ ঐ তিন জন প্রতিবন্ধিও। নিজের কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই । তাই সরকারি কোনো সহায়তা পেলে তারা আরো এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করেন অনেকে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর