প্রকাশিত:
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:১৫
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত মওলানা ভাসানী সেতুতে অবশেষে আলো জ্বলে উঠেছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে সেতুটি নতুন রূপে সেজে ওঠে। এখন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেতুর সৌন্দর্য বর্ধনে নিয়মিতভাবে আলো জ্বালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
আলো জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে সেতু ও আশপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
এর আগে গত ২০ আগস্ট মওলানা ভাসানী সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের দিন দুপুরেই সেতুর সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার, বাতি ও রিফ্লেক্স লাইট চুরি হয়ে যায়। এতে সেতুসহ আশপাশ এলাকা দীর্ঘ ১৯ দিন অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। দর্শনার্থীরাও হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
চুরির ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা হলে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে তাদের কাছে চোরাই মালামাল পাওয়া যায়নি। পরে এলজিইডি নতুন তার ও লাইট স্থাপন করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেতুতে পুনরায় আলো জ্বালাতে সক্ষম হয়। চুরি প্রতিরোধে সেতুর দুই প্রান্তে পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছে।
৯২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ পিসি গার্ডার সেতুটি ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৯.৬ মিটার প্রস্থ। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরঘাট ও কুড়িগ্রামের চিলমারী ঘাটকে সংযুক্ত করেছে এই সেতু। সেতুটি চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের দূরত্ব প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার কমে গেছে। সময় সাশ্রয় হয়েছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা।
এলজিইডি গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চক্রবর্তী জানান, এই সেতু চালুর মাধ্যমে শুধু গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম নয়, উত্তরাঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজ ও গতিশীল হয়েছে।
মন্তব্য করুন: