প্রকাশিত:
১০ আগষ্ট ২০২৫, ১৮:০০
গাইবান্ধায় কাউয়া চত্বরের শতবর্ষী গাছের ভারী ডালপালা সড়কের উপর ভেঙ্গে পড়ায় দূর্ঘটনায় পড়ছে পথচারীরা।
জানা যায়, গাইবান্ধা শহরের কাঠপট্টির স্টেশন রোডের দুই পাশে অসংথ্য কড়ই গাছগুলির মধ্যে অধিকাংশ গাছ শতবর্ষী হওয়ায় সেগুলির ডালপালা সামান্য ঝড়বৃষ্টি ও বাতাসে ভেঙ্গে পড়ছে। এর ফলে প্রত্রিনিয়ত ঐ রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীরা আহত হচ্ছে, হালকা যানবাহনগুলিও ভাংচুরের কবলে পড়ছে। কাঠপট্টির একাধিক ব্যবসায়ীরা গাছগুলী কেটে সরিয়ে নিয়ে জনসাধারনকে এই বিড়ম্বনা থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছে।
জানা যায় প্রায় অর্ধশতাব্দী পূর্বে তৎকালীন রেলওয়ে বিভাগ রাস্তার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি এবং আবহাওয়া ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে ঐ গাছগুলি রোপন করে। প্রায় এক শতাব্দী ধরে ঐ গাছগুলী গাইবান্ধা শহরের রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকার প্রকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেমে মানুষের মনে ঠাই করে নিয়েছে। কালের বিবর্তনে ঘন ডালপালায় ভরা গাছগুলিতে শতশত কাক , চিল ও অন্যান্য পাখীরা গাছের মাথায়, ডালপালার আড়ালে তাদের নিরাপদ বাসা বাঁধতে শুরু করে। সন্ধায় এ গাছগুলিতে নীড়ে ফেরা শতশত কাক, চিল ও নানা জাতের পাখীর আনাগোনায় ঐ এলাকা মূখরিত হয়ে পড়ে। একসময় ষ্টেশন সংলগ্ন ঐ এলাকার নাম কাউয়া চত্বর হিসেবে পরিচিতি পায়।
বেশ কয়েক বছর ধরে সামান্য বাতাসে ও ঝড়বৃষ্টির দিনে পুরনো ঐ গাছগুরির ডালপালা সড়কের উপর ভেঙ্গে পরে চলাচলকারী যানবাহন ভাঙ্গচুর, পথচারী আহতের ঘটনা ছাড়াও গাছের ডাল ভেঙ্গে মাথায় পড়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় বেশকিছু গাছ কেটে ফেলে লোকজনকে শংকামূক্ত করতে পরিবেশবাদীরা একাধিকবার প্রশাসনের হস্তেেক্ষপ চেয়েছ্ ে। সম্প্রতি ঐ সড়কে অবস্থিত জেলা জাতীয় পার্টির অফিস ঘেঁসে ছালবাকলহীন একটি বিশাল মরা গাছ লোকজনের ভীতির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরনো ঐ গাছটির ডাল ভেঙ্গে পড়ে বেশ কয়েকটি অটোরিক্সা, রিক্সা ছাড়াও পথচারী আহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এ গাছটি কেটে অপসারন করার জন্য চলাচলকারী হাজারো মানুষ , স্থানীয় অধিবাসী ও কাঠপট্টির বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ীরা দাবী জানিয়েছে। যেহেতু ঐ রাস্তাটি বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব রাস্তা, সেহেতু রেলওয়ে কতৃপক্ষের কাছে জনসাধারনের দূর্দশা লাঘবে ঐ মরাগাছটি সহ প্রযোজনীয় সংখ্যক গাছ কেটে অপসারনের দাবী জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন: